অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা সিএসআইআরও এবং মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এমন কিছু অবস্থা চিহ্নিত করেছেন, যাতে কিছু এল নিনো ও লা নিনা এক বছর আগেই পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব। সাধারণত প্রায় ছয় মাস আগে এগুলোর ভরসাযোগ্য পূর্বাভাস দেওয়া যায়, নতুন পদ্ধতিতে সময়টা দ্বিগুণ।
নয়টি দেশের জলবায়ু মডেলের এল নিনো-সাউদার্ন অসিলেশনের (এনসো) সাড়ে সাত হাজারের বেশি পুরোনো পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে দলটি দেখেছে, পূর্বাভাস শুরুর সময় প্রশান্ত মহাসাগর কোন অবস্থায় ছিল, এল নিনো, লা নিনা নাকি নিরপেক্ষ, তা থেকেই বোঝা যায় ১২ মাস পর সেই পূর্বাভাস কতটা নির্ভরযোগ্য হবে। লা নিনার সময় শুরু করা পূর্বাভাস এক বছর পরেও ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল দিয়েছে, আর নিরপেক্ষ অবস্থা থেকে শুরু করা পূর্বাভাস ছিল অনেক কম নির্ভরযোগ্য। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে সায়েন্স অ্যাডভান্সেস সাময়িকীতে।
প্রধান লেখক, সিএসআইআরওর জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. নন্দিনী রমেশ বলেন, কোন পূর্বাভাস বেশি আস্থার যোগ্য তা চিহ্নিত করে মানুষকে অনেক আগে এল নিনো সম্পর্কে সতর্ক করা সম্ভব হতে পারে। তবে পূর্বাভাস সংস্থাগুলোর মডেলে এই ফল কাজে লাগাতে এখনো কয়েক ধাপ বাকি বলে তিনি জানান।
গবেষণাটি এমন সময়ে এল, যখন প্রশান্ত মহাসাগরে চলতি এল নিনো আরও শক্তিশালী হচ্ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো এ সপ্তাহে বলেন, এবারের এল নিনো নজিরবিহীন শক্তির হতে পারে এবং এর প্রভাব ২০২৭ সাল পর্যন্ত গড়াবে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার একে তাপ, খরা ও বন্যার 'ধ্বংসযজ্ঞ' বলে বর্ণনা করেছেন।
আগাম সতর্কতা সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে পানি ও কৃষিতে। ফ্রান্সের সিএনআরএসের গবেষণা পরিচালক দাভিদে ফারান্দা বলেন, সরকার পানি সংরক্ষণ ও বণ্টনে আরও সতর্ক হতে পারে, জলাধার ও ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা করতে পারে, চাষের সময়সূচি ও সেচ পদ্ধতি বদলাতে পারে এবং খরা বা বন্যার জন্য মানুষকে প্রস্তুত করতে পারে। তাঁর মতে, কৃষকেরা বপনের তারিখ বদলে, দিনের ঠান্ডা সময়ে সেচ দিয়ে, খরার আগে পানি জমিয়ে এবং ফসল ও গবাদিপশুকে তীব্র গরম থেকে রক্ষা করে ক্ষতি কমাতে পারেন।
এল নিনো থামানো যায় না, তবে ফারান্দা মনে করিয়ে দেন, উষ্ণ হয়ে ওঠা জলবায়ু এর প্রভাব বাড়িয়ে দিচ্ছে: শীতল করা লা নিনা থাকা সত্ত্বেও ২০২৫ সাল ছিল রেকর্ডের তৃতীয় উষ্ণতম বছর, ২০১৬ সালের এল নিনোর বছরের চেয়েও গরম।
ছবি: NOAA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ইউরোনিউজ





মন্তব্য
(০)