ঘর সাজাতে অনেকেই বসার ঘর, শোবার ঘর বা অফিসের টেবিলে ইনডোর প্ল্যান্ট রাখেন। প্রচলিত ধারণা, এসব গাছ ঘরের বাতাস পরিষ্কার ও সতেজ রাখে। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের অধ্যাপক জন ট্রেগনিংয়ের ব্যাখ্যা উদ্ধৃত করে বাংলা ট্রিবিউন জানিয়েছে, বিষয়টি ততটা সরল নয়।
তাঁর হিসাবে, সালোকসংশ্লেষণের সময় গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড নেয় আর অক্সিজেন ছাড়ে, কিন্তু একটি সাধারণ গাছ দিনে মাত্র কয়েক লিটার অক্সিজেন তৈরি করে। একজন মানুষ দিনে প্রায় ৫০০ লিটার অক্সিজেন ব্যবহার করেন। ফলে একজনের চাহিদার সমান অক্সিজেন পেতে কয়েক শ গাছ দরকার, আর সালোকসংশ্লেষণের জন্য পর্যাপ্ত আলোও লাগে।
তাই ঘরের বাতাস ভালো রাখতে গাছের কাছে বেশি প্রত্যাশা না করে নিয়মিত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করাই বেশি জরুরি। জানালা খুলে বাইরের বাতাস ঢুকতে দিলে ঘরে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা কমে। বদ্ধ ঘরে দীর্ঘ সময় থাকলে ঝিমুনি আসতে পারে, আর বায়ু চলাচল না থাকলে সর্দি-কাশিসহ সংক্রামক রোগ ছড়ানোর ঝুঁকিও বাড়ে।
তবে ঘরে গাছ রাখার উপকারিতা একেবারে নেই, তা নয়। সবুজ গাছ ঘরের সাজে নতুন মাত্রা যোগ করে এবং মনে স্বস্তি দিতে পারে। ১৯৮০-এর দশকের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, অস্ত্রোপচারের পর জানালা দিয়ে গাছপালা দেখতে পাওয়া রোগীদের তুলনায় দেয়াল দেখা রোগীদের বেশি ব্যথার ওষুধ লেগেছিল, আর গাছ দেখা রোগীরা তুলনামূলক দ্রুত সেরে উঠেছিলেন।
অর্থাৎ সৌন্দর্য ও মানসিক স্বস্তির জন্য ঘরে গাছ রাখা ভালো অভ্যাস, কিন্তু বাতাস সতেজ রাখতে গাছের পাশাপাশি ঘরে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও রাখতে হবে।
প্রতিবেদনটি বাংলা ট্রিবিউনের জীবনযাপন ডেস্কের।
ছবি: Tangopaso / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন); জানালার নিচের তাকে টবের গাছ।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন





মন্তব্য
(০)