ঢাকার খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক দোকানে এক, দুই ও পাঁচ লিটারের বোতল নেই; কোথাও মিললে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি চাওয়া হচ্ছে। লিটারে মাত্র এক টাকা মুনাফার কারণে অনেক খুচরা বিক্রেতা বোতলের তেল রাখা ছেড়ে দিয়েছেন, জানিয়েছে জাগো নিউজ।
শুক্রবার মিরপুরের মুসলিম বাজারে বেসরকারি চাকরিজীবী মিকদাদ আহমেদ অন্তত ১০টি দোকান ঘুরে একটিতে আধা লিটারের বোতল পান ১০৫ টাকায়; সেখানে এক লিটার বিক্রি হচ্ছিল ২০৫ টাকায়। বাজারের বেশির ভাগ দোকানে বোতল ছিল না, খোলা তেল ছিল লিটার ২০০ টাকায়। মিরপুর ১১, মালিবাগ ও মৌচাকেও একই চিত্র; রাজধানীতে খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে লিটার ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়।
দোকানি সোহাগ জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তিনি বোতলের তেল বিক্রি করছেন না, কারণ লাভ লিটারে এক টাকা, তার ওপর চাহিদামতো তেলও মেলে না। আরেক দোকানি শাফায়েত বলেন, তেল নিতে হলে কোম্পানির অন্য পণ্যও রাখতে হয়। বিক্রেতাদের অভিযোগ, আগে বাকিতে তেল কেনা যেত, এখন সরবরাহকারীরা পুরো টাকা নগদে নিচ্ছেন; কোম্পানিগুলো সুপারশপে তেল দিলেও ছোট দোকানে চাহিদামতো দিচ্ছে না।
বর্তমানে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিনের নির্ধারিত দাম ২০৪ টাকা, পাঁচ লিটার এক হাজার টাকা। ৩ সেপ্টেম্বর লিটারে পাঁচ টাকা বাড়ানো হয়; এর আগে এপ্রিলের শেষে চার টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করা হয়েছিল। ফেব্রুয়ারি থেকেই সরবরাহে টানাপোড়েন, জুলাইয়েও সংকটের অভিযোগ ছিল। মৌচাকের ব্যবসায়ী আলী ইব্রাহিমের ধারণা, আরেক দফা দাম বাড়লে দোকানে আবার তেল দেখা যাবে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়ার পরই কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দেয়, এটি তাদের নিয়মিত কৌশল; ছোট ব্যবসায়ীদের তেল আমদানির সুযোগ দিয়ে বাজার উন্মুক্ত করলে সংকট নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
এর মধ্যেই বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড ভেজিটেবল ফ্যাট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন লিটারে আরও ১৩ টাকা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে।
ছবি: Gveret Tered / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)