প্রিসিশন ফার্মেন্টেশন প্রযুক্তিতে মিষ্টি প্রোটিন তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্টআপ উবলি (Oobli)। প্রতিষ্ঠানটি নেদারল্যান্ডসের কোসান ইনগ্রেডিয়েন্টসের (Cosun Ingredients) সঙ্গে মিলে চকলেটে চিনির জায়গা নেওয়ার একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে গ্রিন কুইন। এতে উবলির প্রোটিনের সঙ্গে মেশানো হয়েছে কোসানের ফ্রুটালোজ নামের চিকোরি-শিকড়ের আঁশ।
পদ্ধতিটি এমন: মিষ্টি প্রোটিনের ডিএনএ ক্রম কোমাগাটায়েলা ফাফি নামের এক ঈস্টে ঢোকানো হয়; ফার্মেন্টেশন ট্যাংকে সেই ঈস্টকে চিনি ও পুষ্টিকর দ্রবণ খাওয়ালে প্রোটিন তৈরি হয়, পরে তা ছেঁকে পরিশোধন করা হয়। আফ্রিকায় জন্মানো উবলি, কাটেমফে, সেরেন্ডিপিটি বেরি ও মিরাকল ফলের প্রোটিনের আদলে এগুলো তৈরি। উবলির ব্রাজেইন চিনির চেয়ে ১,০০০ গুণ পর্যন্ত মিষ্টি, মোনেলিন আরও বেশি; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শরীর এগুলো প্রোটিন হিসেবে হজম করে, ক্যালরি কম, রক্তে শর্করায় প্রভাব নেই।
উবলি বলছে, চকলেট থেকে চিনি সরানো সবচেয়ে কঠিনগুলোর একটি, কারণ চিনি শুধু মিষ্টি দেয় না, চকলেটের ভর, মুখে গলে যাওয়ার অনুভূতি আর স্ফটিক-গঠনও দেয়। বেশির ভাগ চিনিমুক্ত চকলেটে সুগার অ্যালকোহল, বিরল শর্করা বা উচ্চ-তীব্রতার মিষ্টিকারক থাকে। চিকোরির আঁশ চিনির সেই গঠন ও প্রবাহ জোগাবে, ফলে আঁশসমৃদ্ধ, চিনিমুক্ত চকলেট বানানো যাবে। কোসান ইনগ্রেডিয়েন্টসের উত্তর আমেরিকা বিভাগের প্রেসিডেন্ট কেন হর্ন জানান, আইসক্রিম ও বেকারি পণ্যের জন্যও এমন সমাধানের পরিকল্পনা আছে।
সেরেন্ডিপিটি বেরির প্রোটিন থেকে তৈরি মোনেলিন এত দিন বাছাই করা অংশীদাররাই পেত; এখন উবলি তা যেকোনো আকারের ব্র্যান্ডের জন্য খুলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এটি মিষ্টিকারক ও প্রাকৃতিক ফ্লেভার হিসেবে বিক্রির অনুমোদন পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, একাধিক মিষ্টি প্রোটিন মেশালে মিষ্টতার তীব্রতা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। ‘উবলি ইনসাইড’ কর্মসূচিতে পণ্য নতুন করে তৈরি করতে চাওয়া ব্র্যান্ডদের উন্নয়ন-সহায়তা ও মোড়কে ব্যাজ দেওয়া হবে।
স্টার্টআপটি প্রায় ৫ কোটি ডলার তহবিল তুলেছে, নিজস্ব চকলেট বিক্রি করে এবং ইনগ্রেডিয়ন ও গ্রুপো বিম্বোর মতো প্রস্তুতকারকের সঙ্গে কাজ করছে। গ্রিন কুইন যে পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করেছে, তাতে মার্কিনিরা দিনে গড়ে ১৭ চা-চামচ চিনি খান এবং তাঁদের ৪২ শতাংশ স্থূল। উবলির প্রধান নির্বাহী অ্যালি উইং বলেন, ‘মিষ্টি প্রোটিনের সময় এসে গেছে।’ প্রতিবেদনটি লিখেছেন অনয় মৃদুল।
ছবি: Cyriac Gbogou / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Green Queen




মন্তব্য
(০)