নিজেকে ভারতের সবচেয়ে বড় শস্য-বাণিজ্য প্ল্যাটফর্ম বলা আর্য.এজি (Arya.ag) এবার আপেলের ব্যবসায় নামছে বলে জানিয়েছে অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম। এ মৌসুম থেকেই হিমাচল প্রদেশের কিন্নৌর, নারকান্ডা, রোহরু, কোটখাই ও জুব্বলের আপেল অঞ্চলে বাছাই, মজুত, অর্থায়ন ও বাণিজ্যের ব্যবস্থা নিয়ে যাবে তারা। চাষি, কৃষক উৎপাদক সংগঠন ও স্থানীয় সংগ্রাহকদের সঙ্গে মিলে বাছাই করা আপেল হিমাচল, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের সংগঠিত বাজারে পাঠানো হবে।
বাগানের কাছের প্যাক হাউসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত স্ক্যানার রং, আকার ও খোসার দাগ দেখে আপেল বাছাই করবে এবং প্রতিটি চালানের জন্য ডিজিটাল মান-নথি তৈরি করবে। বাছাই করা চালান যাবে নিয়ন্ত্রিত-বায়ুর (CA) হিমাগারে, যেখানে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রিত থাকবে, মজুত বিমা করা থাকবে এবং ডিজিটাল গুদাম-রসিদে তার হিসাব থাকবে; পরে সারা বছর খুচরা বিক্রেতা, ই-কমার্স, প্রক্রিয়াজাতকারী ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতাদের কাছে বিক্রি হবে।
মজুত করা আপেলের বিপরীতে ঋণও দেবে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিটি ঋণ একটি নির্দিষ্ট চালান, তার মান-নথি, গুদাম-রসিদ আর হিমাগারের নির্দিষ্ট কক্ষের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, শস্যের ক্ষেত্রে তারা যেভাবে করে। এতে চাষি সময়মতো টাকা পাবেন, আর নিবন্ধিত ব্যবসায়ী ও প্রক্রিয়াজাতকারীরা ফসল তোলার সময় সব মূলধন আটকে না রেখেই কিনতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, আপেলের চক্রে আনুষ্ঠানিক ঋণ কিছু আছে, কিন্তু বস্তুনিষ্ঠভাবে বাছাই করা, বিমাকৃত, মজুত ফলের বিপরীতে ঋণ বিরল। হিমাগারের একটি কক্ষ একবার খুললে আর সিল করা যায় না, তাই ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী পুরো কক্ষ ধরে মাল ছাড়া হবে।
হিমাচলে আপেল তোলা হয় জুলাই থেকে নভেম্বর; চাষিরা প্রায়ই তাড়াতাড়ি মান্ডিতে বেচে দেন, টাকা পেতে কয়েক সপ্তাহ লাগে। ডিসেম্বর থেকে জুন ক্রেতারা মজুত আপেল বা আমদানির ওপর নির্ভর করেন। কম তুষারপাত আর শীতে যথেষ্ট ঠান্ডা না পড়ায় ২০২৬ সালের ফলন ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার টন, যা ২০২৫ সালের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ কম; এতে মৌসুমের বাইরে সরবরাহ ঝুঁকিতে।
সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী প্রসন্ন রাও বলেন, ‘এক বস্তা শস্য সিদ্ধান্তের জন্য এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে পারে, এক বাক্স রয়্যাল ডেলিশাস আপেল পারে না।’ মরিচ ও পেঁয়াজের পর আপেল প্রতিষ্ঠানটির উদ্যান-ফসলের তালিকায় যোগ হলো; নতুন পচনশীল পণ্যের ব্যবসা দেখবেন নীতিন কুমার লাল শ্রীবাস্তব। প্রথম মৌসুমে মনোযোগ দেশের ভেতরের চাহিদায়।
ছবি: Sumita Roy Dutta / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম




মন্তব্য
(০)