জমি, ফসল, পানি বা খাবারে পার- ও পলিফ্লুরোঅ্যালকাইল পদার্থ (পিএফএএস) ধরা পড়লে দূষণ অন্য কোথাও থেকে এলেও কৃষককে প্রায়ই আর্থিক, নিয়ন্ত্রক ও সুনামের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কাউন্সিল ফর এগ্রিকালচারাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ক্যাস্ট, CAST)-এর নতুন এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
‘পিএফএএস ইন এগ্রিকালচার: সায়েন্স, আনসার্টেনটি, অ্যান্ড রিস্ক কমিউনিকেশন’ নামের প্রতিবেদনটি ১৬ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার প্রকাশের কথা ছিল। এতে বলা হয়েছে, কৃষক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এমন এক সংকটের কেন্দ্রে পড়েছেন যা মূলত তাঁদের তৈরি নয়। প্রতিবেদনের উপসংহার, কৃষক ঝুঁকি কমানোর অংশীদার, অন্যের সৃষ্ট দূষণের সুবিধাজনক নিশানা নন।
‘চিরস্থায়ী রাসায়নিক’ নামে পরিচিত পিএফএএস বায়োসলিডস (পয়োবর্জ্যের কাদা), কম্পোস্ট, সেচের পানি ও শিল্পদূষণের মাধ্যমে খামারে পৌঁছাতে পারে। প্রতিবেদন বলছে, নীতির বড় সমস্যা হলো রাসায়নিকভাবে ভিন্ন হাজারো পদার্থকে একটি ঝুঁকির শ্রেণিতে ফেলা। মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা ইপিএ-র পিএফএএস তালিকায় ২১,০২৮টি পদার্থ আছে, অথচ স্বাস্থ্যঝুঁকির সবচেয়ে শক্ত প্রমাণ মূলত পিএফওএ ও পিএফওএস-এর মতো বহুল গবেষিত যৌগ নিয়ে, বিশেষ করে উচ্চমাত্রার সংস্পর্শে।
ঝুঁকি নির্ভর করে নির্দিষ্ট রাসায়নিক, সংস্পর্শের মাত্রা, সময়কাল ও পথের ওপর। প্রতিবেদন বলছে, মাটি বা খাবারে সামান্য পরিমাণ পিএফএএস পাওয়া গেলেই উল্লেখযোগ্য ক্ষতি প্রমাণিত হয় না।
প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্যের বিধিবিধান পর্যালোচনা করা হয়েছে, যার মধ্যে আছে ইপিএ-র ২০২৫ সালের পয়োবর্জ্য-কাদার খসড়া ঝুঁকি মূল্যায়ন, ২০২৬ সালের খসড়া বায়োসলিডস নির্দেশিকা এবং মার্কিন কৃষি বিভাগের জন্য তৈরি ন্যাশনাল একাডেমিজের ২০২৬ সালের প্রতিবেদন। উৎপাদকদের বিরুদ্ধে চলা মামলাও এতে আলোচিত হয়েছে।
ক্যাস্টের সুপারিশ: উৎসেই দূষণ নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিপূর্ণ কৃষি উপকরণ বেছে বেছে পরীক্ষা, প্রতিটি যৌগ আলাদাভাবে মূল্যায়ন, বিস্তারিত রেকর্ড রাখা, অঙ্গরাজ্যের নীতি আলোচনায় অংশ নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষগুলোর সঙ্গে আগেভাগে যোগাযোগ।
ছবি: U.S. Fish and Wildlife Service / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: Farms.com




মন্তব্য
(০)