মাথাব্যথা, শরীরব্যথা বা সাময়িক অস্বস্তিতে অনেকে ফার্মেসি থেকে নিজেই পেইনকিলার বা অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খান। শুরুতে কষ্ট কমলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন এসব ওষুধ খেলে শরীরের, বিশেষ করে কিডনির, নীরব ক্ষতি হতে পারে বলে দেশ রূপান্তরের এক স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।
ঘন ঘন পেইনকিলারে পেটের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়, বদহজম, গ্যাস ও পেটে অস্বস্তি দেখা দেয়। সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো, কিডনির বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না; অনেকে সুস্থ বোধ করেও সাধারণ রক্ত পরীক্ষায় ক্রিয়েটিনিন বেশি দেখে প্রথম জানতে পারেন, আর ততক্ষণে ক্ষতি অনেক সময় আর ফেরানো যায় না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণ সুস্থ মানুষের এক-দুই দিন পেইনকিলার খাওয়ায় ঝুঁকি কম; কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে সপ্তাহে একাধিকবার খেলে কিডনিতে বাড়তি চাপ পড়ে। পানিশূন্যতা, বেশি বয়স, ডায়াবেটিস বা আগে থেকে কিডনির সমস্যা থাকলে অল্প পেইনকিলারেও বড় ক্ষতি হতে পারে।
অনেকে ভাইরাসজনিত জ্বর, ঠান্ডা বা শ্বাসকষ্টেও অ্যান্টিবায়োটিক খান, অথচ অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের ওপর কাজ করে না। অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক কিডনির কোষের ক্ষতি বা প্রদাহ ঘটাতে পারে, আর নির্দিষ্ট মাত্রা ও মেয়াদ না মানলে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়।
ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি আগে থেকে কিডনি রোগ বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, বয়স্ক, শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী, দীর্ঘস্থায়ী পানিশূন্যতায় ভোগা এবং হার্ট ফেইলিউর বা লিভারের রোগীদের। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ওষুধে ব্যথা চেপে না রেখে কারণ খুঁজে বের করা, আর নিয়মিত পেইনকিলার বা অ্যান্টিবায়োটিকের দরকার মনে হলে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া।
ছবি: Radler22 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0); ব্যথানাশক ট্যাবলেটের প্রতীকী ছবি
সূত্র: দেশ রূপান্তর


মন্তব্য
(০)