প্রতিষ্ঠার প্রায় সাত দশক পরও পাবনা মানসিক হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগী ও স্বজনদের জন্য কোনো বিশ্রামাগার নেই। দেশের নানা জেলা থেকে মানসিক রোগী নিয়ে আসা মানুষকে বহির্বিভাগের সামনে গাদাগাদি করে, কখনো খোলা মাঠে বা গাছতলায় বসে অপেক্ষা করতে হয়। আজ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে আজকের পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।
১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটি এখন ৫০০ শয্যার। বহির্বিভাগে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন, অথচ যুগের পর যুগ বহির্বিভাগ চলছে একটি পুরোনো ছোট ভবনে। অনেকে আগের দিন রওনা দিয়ে মধ্যরাতে বা ভোরে পাবনায় পৌঁছান; হাসপাতালের ভেতরে থাকার বা বিশ্রামের কোনো ব্যবস্থা নেই।
গত বৃহস্পতিবার বহির্বিভাগের সামনে কথা হয় বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ থেকে আসা বয়োবৃদ্ধ আবদুল লতিফের সঙ্গে। মানসিক রোগে আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে রাতে পাবনায় পৌঁছে থাকার জায়গা না পেয়ে হাসপাতালসংলগ্ন পুলিশ ফাঁড়ির বারান্দায় রাত কাটান তিনি। খুলনার দিঘলিয়া থেকে আসা পরিমল কুমার মণ্ডল রাতে ট্রেনে ঈশ্বরদী নেমে রোগী নিয়ে স্টেশনেই রাত কাটিয়েছেন। তিনি বলেন, "যদি একটা বিশ্রামাগার থাকত, তাহলে সবার উপকার হতো।"
মাগুরা থেকে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, এত দূর পথ পাড়ি দিয়ে এসে একটু বিশ্রাম নেওয়ার বা বসার ভালো পরিবেশ নেই; সরকার থাকার ব্যবস্থা করলে সবার উপকার হতো।
হাসপাতালের আবাসিক মনোরোগ চিকিৎসক এ কে এম শফিউল আযম বিশ্রাম বা থাকার ব্যবস্থা না থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সরকার পাবনা মানসিক হাসপাতালকে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতালে রূপান্তরের কথা ভাবছে। সেই প্রকল্পে রোগীদের জন্য আলাদা একটি ওয়ার্ড থাকবে, যেখান থেকে পর্যায়ক্রমে ভর্তির সুযোগ মিলবে, আর স্বজনদের জন্য আলাদা হলরুম বা ডরমিটরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এবারের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য "জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি"। হাসপাতালের দরজায় অপেক্ষমাণ রোগীর স্বজনদের কথাও সেই শোনার অংশ। প্রতিবেদনটি আজকের পত্রিকার।
ছবি: Imtiaz Tonmoy / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0); পাবনা মানসিক হাসপাতাল
সূত্র: আজকের পত্রিকা





মন্তব্য
(০)