জনবল সংকট, সরঞ্জামের ঘাটতি আর অস্ত্রোপচারকক্ষ না থাকায় ধুঁকছে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। মেঘনাপারের উপজেলাটির প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা এই হাসপাতাল। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে রোগীদের জেলা শহরে যেতে হচ্ছে, তাতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।
প্রতিদিন বহির্বিভাগে অন্তত ৬০০ রোগী চিকিৎসা নেন। ৩১ শয্যার বিপরীতে অন্তর্বিভাগে ভর্তি থাকেন ৫০ থেকে ৫২ জন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত ১৩১ পদের মধ্যে কর্মরত ৭৫ জন, খালি ৫৬টি। ২০ জন চিকিৎসকের পদে আছেন ১১ জন; তিনজন কনসালট্যান্ট থাকার কথা থাকলেও একজনও নেই। নার্সের ৩০টি পদের মধ্যে কর্মরত ২৬ জন।
সবচেয়ে বড় সংকট অস্ত্রোপচারকক্ষ না থাকা। এখানে কোনো অস্ত্রোপচার হয় না, শুধু স্বাভাবিক প্রসব হয়; অস্ত্রোপচার লাগলে প্রসূতিকে অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হয়। প্যাথলজি বিভাগ থাকলেও এক্স-রে মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাম বা সংশ্লিষ্ট টেকনিশিয়ান নেই, ফলে সাধারণ পরীক্ষার জন্যও রোগীদের বাইরে যেতে হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, একতলা ভবনের ৩১টি শয্যাই রোগীতে পূর্ণ; আরও অনেক রোগী ও স্বজন বারান্দায় থাকছেন, আর এক কক্ষে ছয়জন চিকিৎসক রোগী দেখছেন। রোগী সেলিনা বেগমের স্বামী মনজুর মিয়া বলেন, "বেড খালি না থাকায় মেঝেতে থাকতে হচ্ছে।" আরেক রোগী মহসিন মিয়া জানান, ছোটখাটো অপারেশনের জন্যও জেলা সদরে যেতে হয়।
হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার অবকাঠামো কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে, শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। ছয় দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও কাজ শেষ না হওয়ায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ঠিকাদারের চুক্তি বাতিল করা হয়। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নতুন ঠিকাদারকে কাজের আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদন্নবী মাছুম বলেন, ৫০ শয্যার অবকাঠামো কাজ শেষ হলে চিকিৎসাসেবা আরও বিস্তৃত হবে; কাজ দেরি হওয়ায় চিকিৎসকদের কক্ষেও রোগী রাখতে হচ্ছে। প্রতিবেদনটি আজকের পত্রিকার।
ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0); হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
সূত্র: আজকের পত্রিকা





মন্তব্য
(০)