ভারতের আসাম রাজ্যের মানস জাতীয় উদ্যানে গোলাপি ফুলের একটি নতুন উদ্ভিদ প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন গবেষকেরা। প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম রাখা হয়েছে Osbeckia assamensis (অসবেকিয়া আসামেনসিস)। উদ্ভিদবিজ্ঞানী বার্নালি দাস ও নমিতা নাথের এই গবেষণা ২০২৬ সালের ২২ অক্টোবর উদ্ভিদবিষয়ক আন্তর্জাতিক জার্নাল ফাইটোট্যাক্সায় প্রকাশিত হয়েছে বলে জানিয়েছে এই সময়।
গবেষকদের বর্ণনায়, এটি গুল্মজাতীয় ঝোপালো উদ্ভিদ, সাধারণত ২ থেকে ২.৫ মিটার লম্বা হয়। এর সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বৈশিষ্ট্য উজ্জ্বল গোলাপি ফুল। প্রতিটি ফুল মোটামুটি ৩ থেকে ৩.৫ সেন্টিমিটার, আর ফুল ফোটে গুচ্ছে; একটি গুচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫টি ফুল থাকতে পারে।
সারা বছর এই গাছে ফুল ফোটে না। সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, অর্থাৎ বর্ষার শেষভাগ থেকে শীতকাল জুড়ে এতে ফুল ও ফল ধরে। প্রজাতিটি পাওয়া গেছে মানস জাতীয় উদ্যানের তৃণভূমিতে।
২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ওই অঞ্চলে একাধিকবার জরিপ চালানো হয়। প্রথম নমুনা সংগ্রহ করা হয় ২০২২ সালের ৮ অক্টোবর, আরেকটি নমুনা নথিভুক্ত হয় ২০২৫ সালের অক্টোবরে।
প্রথমে কাছাকাছি বৈশিষ্ট্যের Osbeckia nayarii প্রজাতির সঙ্গে একে গুলিয়ে ফেলা হয়েছিল। পরে কাণ্ড, পাতার গঠন, ফুলের বিন্যাস, ফুলের বাইরের অংশ এবং বীজ পরীক্ষা করে একে আলাদা প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত করা হয়। অর্থাৎ শুধু ফুলের রং দেখে নয়, একাধিক বৈশিষ্ট্য মিলিয়েই নতুন প্রজাতির স্বীকৃতি এসেছে।
প্রজাতিটিকে আপাতত আইইউসিএনের তথ্য অপর্যাপ্ত (ডেটা ডেফিসিয়েন্ট) শ্রেণিতে রাখা হয়েছে, অর্থাৎ এটি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে আছে কি না, তা বলার মতো যথেষ্ট তথ্য এখনো নেই। ইউনেস্কো-স্বীকৃত মানস উদ্যানের উদ্ভিদবৈচিত্র্য নথিভুক্ত করা এবং ভবিষ্যৎ সংরক্ষণ পরিকল্পনায় এই আবিষ্কার কাজে আসতে পারে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন প্রস্মিতা দে।
ছবি: আসামের মানস জাতীয় উদ্যান, Kangkansahariaassam / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: এই সময়





মন্তব্য
(০)