হেমন্তের সকালে ঢাকার বনানী ডিওএইচএসের ৪ নম্বর সড়কের পাশে এক বাড়ির সামনের প্রাচীর এখন অনন্তলতার দখলে। সবুজ লতাপাতায় ঢাকা প্রাচীরের ওপর বাতাসে দুলছে গোলাপি ফুলের লম্বা মঞ্জরি। সমকালে প্রকাশিত এক কৃষিবিদ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞের লেখায় এই লতার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।
অনন্তলতার আদি নিবাস মেক্সিকো, তাই অনেক দেশে একে মেক্সিকান ক্রিপার বলা হয়। লম্বা ছড়ায় ফোটা হৃদয়াকৃতির গোলাপি ও সাদা ফুলের জন্য এর আরেক নাম চেইন অব লাভ, সেই সূত্রে বাংলায় কেউ কেউ একে প্রেমলতা বলেন। ইংরেজিতে এর আরেকটি নাম কোরাল ভাইন। লেখকের ভাষ্য, মেক্সিকোর মানুষ যখন গুহায় থাকতেন, তখন এর বীজ ছিল দুর্দিনের খাবার; বীজ থেকে তাঁরা খই ও আটা বানাতেন।
উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম Antigonon leptopus, গোত্র পলিগোনেসি। ১৮৩৮ সালে ইংরেজ উদ্ভিদবিদ উইলিয়াম জ্যাকসন হুকার ও জর্জ আর্নট ওয়াকার-আর্নট প্রথম এই প্রজাতির বিবরণ দেন। নামের শেষাংশ লেপ্টোপাস এসেছে গ্রিক শব্দ থেকে, যার অর্থ সরু পা বা কাণ্ড; এতে লতাটির কোমল সরু কাণ্ড ও আকর্ষী বোঝানো হয়।
অনন্তলতা দ্রুত বাড়ে, বহুবর্ষজীবী এবং ১৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। সুযোগ পেলে চারতলা ছাদেও উঠে যায়। মাটির নিচে এর সুগঠিত কন্দমূল থাকে, তাই আগুনে বা বিরূপ আবহাওয়ায় ওপরের গাছ মরে গেলেও কন্দ থেকে আবার চারা গজায়। বীজ থেকেও গাছ হয়।
পাতা হৃৎপিণ্ডাকার, কিনারা অমসৃণ, অগ্রভাগ তীক্ষ্ণ। লতার আগায় ঝুলন্ত মঞ্জরিতে ফুল ফোটে; প্রতিটি ফুলে পাপড়ির মতো পাঁচটি টেপাল, ভেতরে আটটি পুংকেশর। ফল চকচকে, শঙ্কু আকৃতির ও বাদামি, প্রায় এক সেন্টিমিটার লম্বা। শুকনো বৃতিপত্র ঝরে পড়লে বীজ পানিতে ভেসে দূরে ছড়ায়।
লেখক মনে করিয়ে দিয়েছেন, লতাটি আগ্রাসী স্বভাবের; তবু চমৎকার ফুলের জন্য সারা বিশ্বের বাগানিদের কাছে এটি জনপ্রিয়। বাড়ির প্রাচীর, গেট বা মাচায় শোভাবর্ধক লতা হিসেবে যাঁরা লাগাতে চান, তাঁদের এর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার স্বভাব মাথায় রেখে নিয়মিত ছাঁটাই করতে হবে। বিভিন্ন অঞ্চলে লোকঔষধ হিসেবে এর ব্যবহারের কথাও লেখায় আছে, তবে তা চিকিৎসার পরামর্শ নয়।
ছবি: হাওয়াইয়ের মাউইতে ফুলে ভরা অনন্তলতা, Forest & Kim Starr / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)