সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৬৪%বাতাস ৪ কিমি/ঘ

পেঁয়াজ: ভারতের ওপর নির্ভরতা কাটাতে পারবে কি বাংলাদেশ?

২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার পর নভেম্বরে ঢাকায় কেজিপ্রতি দাম আড়াইশ টাকার কাছে পৌঁছায়। অর্থনীতিবিদ ও কৃষি সচিবের মতে, বিকল্প বাজার খোঁজা আর দেশে উৎপাদন বাড়ানোই এই নির্ভরতা কাটানোর পথ।

পেঁয়াজ: ভারতের ওপর নির্ভরতা কাটাতে পারবে কি বাংলাদেশ?
এগ্রোবিজ

ভারত ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার পর বাংলাদেশের বাজারে পণ্যটির দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। যেসব ভোগ্যপণ্যের জন্য বাংলাদেশের ভোক্তারা ভারতের ওপর বেশি নির্ভরশীল, পেঁয়াজ তার অন্যতম। বিবিসি বাংলা ২০১৯ সালের ২৯ নভেম্বর প্রশ্ন তোলে: এই নির্ভরতা থেকে কি বাংলাদেশ বেরিয়ে আসতে পারবে?

আল জাজিরার ২ অক্টোবর ২০১৯-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ বর্ষার কারণে ভারতে নতুন ফসল বাজারে আসতে দেরি হওয়ায় দেশটি রপ্তানি বন্ধ করে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভারত ২২ লাখ টন তাজা পেঁয়াজ রপ্তানি করেছিল, যা এশিয়ার দেশগুলোর মোট আমদানির অর্ধেকের বেশি। নিষেধাজ্ঞার পর বাংলাদেশে কেজিপ্রতি দাম ১২০ টাকায় ওঠে, যা ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ; সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে। বিবিসি বাংলা জানায়, ১৬ নভেম্বর ঢাকার বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয় কেজিপ্রতি ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায়, অথচ আগস্টে একই পেঁয়াজের দাম ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

গরুর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা


এই প্রশ্নে উঠে আসে গরুর উদাহরণ। ভারতে নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেদেশ থেকে বাংলাদেশে গরু আসা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। বেনারনিউজের ২০১৫ সালের ২১ এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার আগের বছর ভারত থেকে ২৫ লাখ গরু চোরাপথে বাংলাদেশে এসেছিল; ভারতের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে গরু পাচার পুরোপুরি বন্ধ করতে বলেন। ২০১৫ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি ঢাকার হাতিরপুল বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হয় কেজিপ্রতি ৩৭০ টাকায়, চার মাস আগে যা ছিল ২৮০ টাকা।

বিবিসি বাংলার ভাষ্যে, পরে গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় পৌঁছায় এবং প্রথম দুই বছর কোরবানির জন্য গরু খুঁজে পাওয়াই অনেকের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। এই সংকটের কারণে কয়েক বছরের মধ্যে দেশে অনেক গরুর খামার গড়ে ওঠে, আর ২০১৯ সালের আগের দুই বছর বাংলাদেশের কোরবানির পশুর বাজার ভারতের ওপর নির্ভরশীল ছিল না।

বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) দুগ্ধ খামারে প্রজননের ষাঁড়। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) দুগ্ধ খামারে প্রজননের ষাঁড়। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

কেন ভারতের ওপর নির্ভরতা


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা বিবিসি বাংলাকে বলেন, "আমাদের কখনোই উচিত হবে না একটি বাজারের উপর নির্ভরশীল হওয়া।" তাঁর মতে, পেঁয়াজ আমদানিতে শুধু ভারতের ওপর ভরসা না করে বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে, আর দেশের ভেতরে উৎপাদন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। নির্ভরতার দুটি কারণ তিনি উল্লেখ করেন: ঐতিহাসিকভাবে পেঁয়াজ ভারত থেকেই আসে, আর মান ও দাম বিবেচনায় ভারত থেকে আমদানি বাংলাদেশের জন্য লাভজনক।

টিসিবির হিসাব উদ্ধৃত করে বিবিসি বাংলা ১৬ নভেম্বর জানায়, দেশে বছরে ১৭ থেকে ১৯ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়, যা মোট চাহিদার ৬০ শতাংশ; বাকি ৭ থেকে ১১ লাখ টন আমদানি করতে হয়। আমদানির ৯৫ শতাংশ আসে ভারত থেকে, বাকিটা মিয়ানমার, মিশর ও তুরস্ক থেকে। পেঁয়াজ পচনশীল বলে কাছের দেশ থেকে দ্রুত আনতে হয়, তাতে পরিবহন খরচও কম পড়ে।

বাংলাদেশে পেঁয়াজ উৎপাদন। ছবি: Shmunmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বাংলাদেশে পেঁয়াজ উৎপাদন। ছবি: Shmunmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

কৃষি সচিবের হিসাব: দাম পেলে উৎপাদন বাড়বে


কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান মনে করেন, ভারত থেকে গরু আসা বন্ধের পর খামারিরা যে সাফল্য দেখিয়েছেন, পেঁয়াজেও তা সম্ভব। তাঁর দেওয়া সরকারি হিসাবে দেশে ২৩ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়, কিন্তু ঘরে তোলার সময় প্রায় পাঁচ লাখ টন নষ্ট হয় এবং বাজারে থাকে ১৯ লাখ টন; বিদেশ থেকে আসে ১১ লাখ টন, অথচ বছরে প্রয়োজন ৩০ লাখ মেট্রিক টন।

সচিব জানান, কৃষকেরা তখন উৎপাদিত পেঁয়াজের জন্য কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১২ টাকা পেতেন; ভারত থেকে পেঁয়াজ না এলে তাঁরা পেতেন ৩০ থেকে ৩২ টাকা। তিনি বলেন, "কৃষক যখন উৎপাদন করে তখন বিদেশ থেকে আমদানি করলে দাম অনেক নেমে যায়।" তাই কৃষকেরা ফসল বাজারে আনার সময় আপাতত ভারত থেকে আমদানি বন্ধ রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। তাঁর ধারণা, আমদানি না এলে দেশি পেঁয়াজের দাম হয়তো কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা থাকবে, "কিন্তু কখনো আড়াইশ টাকায় উঠবে না।"

উৎপাদন বাড়ানোর পথে বাধাও আছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুদ্দিন বিবিসি বাংলাকে জানান, পেঁয়াজের জমি অন্য ফসলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় থাকে, উত্তর-পশ্চিমের জেলাগুলোর মাঝারি উঁচু ও মাঝারি নিচু জমিতে ফলন ভালো হয়, আর দেশে পেঁয়াজ রাখার উপযোগী হিমাগারের অভাব রয়েছে। পেঁয়াজ সংরক্ষণে দরকার ৬০ শতাংশ আর্দ্রতা ও ৮ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা, যা আলুর হিমাগার থেকে আলাদা।

বাংলাদেশে একটি পেঁয়াজের খেত। ছবি: RockyMasum / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশে একটি পেঁয়াজের খেত। ছবি: RockyMasum / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ছবি: Salim Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: বিবিসি বাংলা (২৯ নভেম্বর ও ১৬ নভেম্বর ২০১৯), আল জাজিরা (২ অক্টোবর ২০১৯), বেনারনিউজ (২১ এপ্রিল ২০১৫)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

এগ্রোবিজ

সম্পর্কিত খবর

দৈনন্দিন

টিসিবির পণ্য বিতরণে অনিয়ম কমাতে ডিজিটাল ব্যবস্থায় জোর

চলতি অর্থবছরে টিসিবির সংগ্রহ কর্মসূচি ৮ হাজার কোটি টাকার; উপকারভোগী যাচাই থেকে সরবরাহ পর্যন্ত ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার কথা জানাল সংস্থাটি, প্রকৃত উপকারভোগী বাছাইয়ে জোর বিশেষজ্ঞদের।

আমার দেশ১৭ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাঙ্গামাটির পাহাড়ি মাল্টা কেজি ৮০ টাকা, সম্ভাব্য বাজারমূল্য ১২ কোটি

রাঙ্গামাটিতে প্রায় ৩৫০ হেক্টরে মাল্টার আবাদ, চলতি মৌসুমে সম্ভাব্য উৎপাদন ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন; স্থানীয় বাজারে দেশি মাল্টা মিলছে কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।

জাগো নিউজ ২৪১৭ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মতামত

খাদ্য আছে, তবু ক্ষুধা কেন: আয়, দাম আর পুষ্টির প্রশ্ন

বিশ্ব খাদ্য দিবসে ড. হারুন রশীদ তাঁর কলামে লিখেছেন, রেকর্ড বোরো উৎপাদনের মধ্যেও তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তা দেখায়, ক্ষুধা এখন উৎপাদনের নয়, আয়, দাম ও ক্রয়ক্ষমতার সংকট।

জাগো নিউজ ২৪১৭ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)