দেশজুড়ে কৃষিজমির দাম কিছুটা নরম হওয়ার আভাস মিললেও ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে নিলামে জমি এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। জমি বিক্রয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা ফার্মার্স উইকলিকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে একাধিক খণ্ড নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দরে বিক্রি হয়েছে।
এইচ অ্যান্ড এইচ ল্যান্ড অ্যান্ড এস্টেটসের সহযোগী পরিচালক জ্যানেট ফ্লিন্টফ (Janet Flintoft) জানান, কামব্রিয়ার উইগটনের কাছে ঘাস কাটা বা ফসল চাষের উপযোগী ৩৮ একর জমি ভরা নিলামকক্ষে একরপ্রতি প্রায় ১৮ হাজার ৬০০ পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে, কিনেছেন এক স্থানীয় কৃষক। তাঁর ভাষায়, এলাকাটি দুগ্ধ খামারের কেন্দ্র, সেখানে স্থানীয় চাহিদা খুবই জোরালো।
পশ্চিম ও দক্ষিণ ওয়েলসের প্রতিষ্ঠান রিস রিচার্ডস অ্যান্ড ব্লাইথের ম্যাথিউ লয়েড বলেন, সেখানে খালি জমি একরপ্রতি ১০ থেকে ১২ হাজার পাউন্ডে বিক্রি হচ্ছে, আর একই খণ্ডের জন্য প্রতিবেশী কৃষকেরা দর হাঁকলে প্রত্যাশার চেয়ে বাড়তি দাম ওঠে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের কিভেলসের বেন হ্যানকক জানান, সেপ্টেম্বরের মাসিক নিলাম ছিল বছরের সবচেয়ে ভালো: ডেভনের ব্র্যাডওয়ার্দিতে ২২.৫ একর চারণভূমি ২ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ড নির্ধারিত দামের বিপরীতে বিক্রি হয়েছে ৩ লাখ ১৫ হাজার পাউন্ডে (একরপ্রতি ১৩ হাজার ৯৮১ পাউন্ড), কাছের ৩৬ একর ঘাসজমি ২ লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ডের বদলে ৪ লাখ ২২ হাজার পাউন্ডে (একরপ্রতি ১১ হাজার ৭০২ পাউন্ড)।
সাইমন্ডস অ্যান্ড স্যাম্পসনের অংশীদার জর্জ হুইটেকার বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এ বছর রেকর্ডের পথে, তাদের সর্বশেষ নিলামে উঠেছে প্রায় ৫০ লাখ পাউন্ড। শেপটন ম্যালেটের কাছে ৩৭ একর গ্রেড-৩ জমি ৩ লাখ পাউন্ড নির্ধারিত দামের বিপরীতে বিক্রি হয়েছে ৫ লাখ ৯৫ হাজার পাউন্ডে (একরপ্রতি ১৫ হাজার ৯০৯ পাউন্ড)। নিলামকক্ষের বাইরে টেলিফোন ও অনলাইনে উপসাগরীয় দেশ, আমেরিকা ও ইউরোপের ক্রেতারাও দর হেঁকেছেন।
শুধু অনলাইন নিলামও কাজে লাগছে। কার্টার জোনাসের টন্টন কার্যালয়ের জ্যাক মিচেল সমারসেট কাউন্সিলের হয়ে উইনক্যান্টনের কাছের ৭৫ একরের লরেন্স ফার্ম বিক্রি করেছেন। খামারবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুরের কারণে সাধারণ গৃহঋণে বিক্রি কঠিন হওয়ায় নিলামের পথ বেছে নেওয়া হয়। ১৩ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড নির্ধারিত দামের খামারটিতে এক সপ্তাহে ৭৫টি দর পড়ে, শেষে বিক্রি হয় ১৬ লাখ ১৯ হাজার পাউন্ডে। শেষ পাঁচ মিনিটে কেউ দর দিলে ঘড়ি আবার পাঁচ মিনিট বাড়ে।
কর্মকর্তাদের মতে নিলামের বড় সুবিধা নিশ্চয়তা: হাতুড়ি পড়লেই দামের ১০ শতাংশ পরিশোধ করতে হয়, বাকিটা সাধারণত ২৮ দিনের মধ্যে, আর বিক্রির পর দর নিয়ে নতুন করে দরকষাকষির সুযোগ থাকে না। তবে বড় খামারের ক্ষেত্রে নিলামে তোলার আগে বিস্তর যাচাই-বাছাই লাগে বলে এখন সেগুলো কমই নিলামে ওঠে; নিলাম বেশি মানায় জমির খণ্ডের বেলায়।
ছবি: Christine Johnstone / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)