চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে তফসিলি ব্যাংকগুলো ২ হাজার ৬৫৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করেছে। আগের অর্থবছরের জুলাইয়ের ২ হাজার ১৫৪ কোটি ৩ লাখ টাকার চেয়ে তা ২৩ শতাংশের বেশি, তবে জুনের ৪ হাজার ৭৫৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার চেয়ে ৪৪ শতাংশের বেশি কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের জুলাইয়ের ‘কৃষি ও পল্লি অর্থায়ন’ মাসিক প্রতিবেদনের বরাতে সারাবাংলা এ তথ্য দিয়েছে।
এ অর্থবছরে কৃষিঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার কোটি টাকা, আগের বছরের ৩৯ হাজার কোটির চেয়ে ৫৩.৮৫ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে ব্যাংকগুলো লক্ষ্যের চেয়েও বেশি, ৪২ হাজার ৮৩৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা বিতরণ করেছিল। লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ভাগ ৩৬ হাজার ৯৩০ কোটি, রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ১৩ হাজার ৫৫৪ কোটি, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ৬ হাজার ৯৪১ কোটি এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর ২ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা।
জুলাইয়ের ঋণের ৪০.৪৭ শতাংশ গেছে শস্য খাতে, ৩৪.৯০ শতাংশ গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালনে, ১৪.৪৬ শতাংশ মৎস্যে, ৪.৫৯ শতাংশ দারিদ্র্য বিমোচনে এবং ৫.৫৮ শতাংশ অন্যান্য খাতে। এক বছরে শস্য খাতের অংশ বেড়েছে ১.৯৮ শতাংশীয় পয়েন্ট, মৎস্যের অংশ কমেছে ১.৪১ পয়েন্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমন ধানসহ মৌসুমি ফসল ও আগাম শীতের ফসলের প্রস্তুতিতে শস্য খাতে ঋণ বেড়েছে।
জুলাইয়ে কৃষিঋণ আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৫২০ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ১৯.২১ শতাংশ বেশি, তবে জুনের ৬ হাজার ১৪ কোটি টাকার চেয়ে ৪১.৪৬ শতাংশ কম। জুলাই শেষে বিতরণ করা কৃষিঋণের স্থিতি (সুদসহ) ৬২ হাজার ৮৬৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, এক বছরে ৫.৭১ শতাংশ বেশি। মেয়াদোত্তীর্ণ কৃষিঋণ ২২ হাজার ৩৬৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, এক বছরে ৬.০৪ শতাংশ কম; তবে প্রতিবেদনে ঋণ শ্রেণীকরণে পরিবর্তনের প্রভাবের কথাও বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) জুলাইয়ে ১১৫ কোটি ১২ লাখ টাকা বিতরণ করেছে, আগের বছরের চেয়ে ২১.১০ শতাংশ বেশি; সংস্থাটির বছরের লক্ষ্য ১ হাজার ৫০৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের লক্ষ্য ২৫ কোটি টাকা হলেও জুলাইয়ে তারা কোনো ঋণ বিতরণ করেনি।
ছবি: মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন। ছবি: Abu Nayeem / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: সারাবাংলা





মন্তব্য
(০)