জাপানের কিওইউ অ্যাগ্রি কোম্পানির (Kyoyu Agri Co. Ltd) সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি করেছে সিনজেনটা (Syngenta), যার আওতায় সাইক্লোপাইরানিল (cyclopyranil) উপাদানভিত্তিক নতুন ধানের আগাছানাশক এশিয়ার নির্বাচিত বাজারে আনা হবে। অণুটি উদ্ভাবন করেছে কিওইউ অ্যাগ্রি; সিনজেনটা নিজের নিবন্ধন দক্ষতা, উৎপাদন সক্ষমতা ও বিপণন নেটওয়ার্ক দিয়ে এটি বাজারজাত করবে।
সাইক্লোপাইরানিল হলো সিনজেনটার প্রথম ধানের আগাছানাশক, যা প্রোটোপরফাইরিনোজেন অক্সিডেজ (পিপিও) এনজাইম আটকে কাজ করে, যাকে আগাছানাশক গ্রুপ ১৪ বলা হয়। দুই কোম্পানির দাবি, এটি বিস্তৃত পরিসরের ঘাস ও চওড়া পাতার আগাছা দমন করে, তার মধ্যে বহুল ব্যবহৃত এসিসিএজ ও এএলএস আগাছানাশকে প্রতিরোধী হয়ে ওঠা আগাছাও আছে। আগাছা গজানোর আগে ও পরে দুই সময়েই এটি প্রয়োগ করা যায়।
ধানে আগাছানাশক প্রতিরোধ ছড়িয়ে পড়ার সময়ে এই চুক্তি এল। গবেষকেরা বিশ্বজুড়ে ধানে ১৯০টির বেশি আগাছানাশক-প্রতিরোধী আগাছার ঘটনা নথিভুক্ত করেছেন, যার মধ্যে শ্যামা ঘাস (বার্নইয়ার্ড গ্রাস) ফলনের জন্য বাড়তি হুমকি। সিনজেনটা ক্রপ প্রোটেকশনের বৈশ্বিক বিপণন প্রধান ইওয়ানা টুডর (Ioana Tudor) বলেন, প্রতিরোধ যত ছড়াচ্ছে, ধানচাষির হাতে কার্যকর বিকল্প তত কমছে।
কিওইউ অ্যাগ্রির জন্য চুক্তিটি এমন বাজারের দরজা খুলছে, যেখানে একা পৌঁছানো কঠিন। প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট মাসাকাজু ইয়ামাদা (Masakazu Yamada) বলেন, নিজেদের প্রযুক্তি বিশ্বমঞ্চে নিয়ে যাওয়া তাদের জন্য বড় মাইলফলক।
অ্যাগনেভিগেটর লিখেছে, সিনজেনটার সম্ভাব্য হংকং শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির আলোচনার মধ্যে এই অংশীদারত্ব এল। এতে দেখা যাচ্ছে, বড় ফসল সুরক্ষা কোম্পানিগুলো নিজেরা সব আবিষ্কারের খরচ ও ঝুঁকি না নিয়ে ছোট বিশেষায়িত উদ্ভাবকদের অণু বাজারে আনার অংশীদার হচ্ছে।
পরিচিত রাসায়নিকে আর না মরা আগাছায় ভোগা এশিয়ার ধানচাষিদের জন্য নতুন কার্যপদ্ধতিটাই খবর; তবে কোন দেশে, কবে পণ্যটি বিক্রি হবে, তা কোম্পানিগুলো জানায়নি।
ছবি: Salicyna / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)