নেদারল্যান্ডসের আলু ও পেঁয়াজচাষিরা ফসল গুদামে তোলার আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত (এআই) অপটিক্যাল সর্টার, অর্থাৎ ক্যামেরা দেখে বাছাইয়ের যন্ত্র ব্যবহার করছেন বেশি করে। পাথর, মাটির ঢেলা ও খারাপ ফসল আগেই সরিয়ে দিচ্ছে যন্ত্রগুলো। ফিউচার ফার্মিং জানিয়েছে, এই প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাক্ষেত্র হয়ে উঠছে দেশটি।
গ্রেডিং লাইনে আগে থেকেই চালু ক্যামেরা পরিদর্শন ও ছবি চেনার প্রযুক্তি এসব যন্ত্রেও ব্যবহার হয়। আলু বা পেঁয়াজ নয় এমন সবকিছু, অর্থাৎ ঢেলা ও পাথর সরানো এখন ভালোভাবেই হয়। নতুন ধাপ হলো গুদামে তোলার সময়ই মান যাচাই: বেঢপ বা সবুজ আলু, ফাটা আলু, তারপোকার ক্ষতি, কাটা, পুরোনো বীজ-আলু ও পচা আলু এবং খোসা ওঠা বা ফিউজারিয়াম রোগে আক্রান্ত পেঁয়াজ আলাদা করা। পচা আলু গুদামে না গেলে বাকি ফসল নিরাপদ থাকে, জায়গাও বাঁচে। বাদ পড়া ফসল যায় তৃতীয় একটি ধারায়, আর পরিষ্কার ফসলকে দুই আকারে ভাগ করার চতুর্থ ধারা নিয়ে কাজ করছেন নির্মাতারা।
ফ্লিকভের্ট ভিশনের বিপণন প্রধান রেমকো থিউনিসে বলেন, "বাজারের চাহিদা অনুযায়ী আমরা প্রযুক্তি তৈরি করি।" তাঁদের কোয়ালিটিগ্রেডার যন্ত্র গ্রেডিং লাইনে হাতে বাছাইয়ের বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে সদ্য তোলা ফসলে কাজ কঠিন: ভেজা এঁটেল মাটিতে ঢাকা আলু দেখতে আলুর মতোই লাগে না, আলুর লতাও সমস্যা করতে পারে।
ফিউচার ফার্মিং যে তিনটি যন্ত্র চালু অবস্থায় দেখেছে, তিনটিই কোনো না কোনো সময় আটকে গিয়েছিল। যন্ত্রের ক্ষমতা ক্যামেরার চেয়ে বেশি নির্ভর করে বাছাই অংশটি কতটা চওড়া এবং বেল্টে ফসল কতটা সমানভাবে ছড়ানো তার ওপর। গতি আর নির্ভুলতার মধ্যে বেছে নিতে হয়। বেশির ভাগ যন্ত্র ফসল ঘোরায় না, ফলে ক্যামেরা সব দিক দেখতে পায় না। ডাউনস নামের যন্ত্র ফসল ঘুরিয়ে দেখে, এতে বাছাই নিখুঁত হয়, কিন্তু বেশি কম্পিউটিং শক্তি লাগে, দামও বেশি।
বিনিয়োগ লাভজনক কি না, তা প্রতিটি খামারকে নিজের হিসাবে দেখতে হবে, বিশেষ করে কতজন শ্রমিকের কাজ বাঁচে এবং শ্রমিক আদৌ পাওয়া যায় কি না। এক ব্যবহারকারী ফিউচার ফার্মিংকে বলেন, "এতে বেল্টে আমাদের ৪ জন লোক কম লাগে।" গুদামে শুধু পরিষ্কার ফসল রাখতে পারাও বড় সুবিধা।
ছবি: Silver Spoon / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: Future Farming




মন্তব্য
(০)