কোষ চাষে তৈরি মাংস, অণুজীবের গাঁজনে তৈরি খাদ্য কিংবা জিন সম্পাদিত ফসলের মতো উন্নত প্রযুক্তির "উদ্ভাবনী" খাদ্যে সম্ভাবনা দেখেন ইউরোপের মানুষ, কিন্তু বেশির ভাগই এখনো সন্দিহান। ইউরোপীয় কমিশনের প্রকাশিত নতুন ইউরোব্যারোমিটার জরিপের বরাতে এ খবর দিয়েছে ফুডনেভিগেটর।
জরিপে অংশ নেওয়া ৫১ শতাংশ মানুষ এসব খাদ্যকে নেতিবাচকভাবে দেখেন, ইতিবাচকভাবে মাত্র ১৯ শতাংশ। অণুজীব দিয়ে তৈরি, স্পষ্ট লেবেল দেওয়া পণ্য কিনতে রাজি ৪২ শতাংশ, রাজি নন ৫৪ শতাংশ। তবে প্রায় ২৭ শতাংশ মনে করেন এসব খাদ্য প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ কমাতে পারে, এক-চতুর্থাংশ খাদ্য নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা বলেছেন, আর এক-পঞ্চমাংশ বলেছেন কৃষক ও খাদ্য উৎপাদকেরা নতুন সরঞ্জাম পাবেন। প্রায় ৭০ শতাংশের মতে এতে ইউরোপে গবেষণা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বাড়বে।
জানাশোনার প্রভাব বড়। যাঁরা নিজেদের ভালোভাবে অবহিত মনে করেন, তাঁদের ৭২ শতাংশ ইতিবাচক, অন্যদের মধ্যে মাত্র ২৭ শতাংশ। তরুণ, বেশি শিক্ষিত ও শহুরে মানুষ এসব খাদ্যে বেশি স্বচ্ছন্দ।
ঐতিহ্যের টান প্রবল। প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মনে করেন, ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছ লেবেল না থাকলে এসব খাদ্য রান্নার ঐতিহ্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতির জন্য হুমকি হতে পারে। ৮৫ শতাংশ চান স্পষ্ট ও আলাদা নাম, সঙ্গে উৎপাদন, উপাদান ও উৎস নিয়ে পরিষ্কার তথ্য। অর্ধেকের কিছু বেশি বলেছেন বাধ্যতামূলক লেবেল তাঁদের আস্থা বাড়াবে, ৩৮ শতাংশ স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং ৩৬ শতাংশ ইউরোপীয় খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের কথা বলেছেন।
পরিবেশের সুফল মত বদলাতে পারে। ৩৫ শতাংশ বলেছেন, বালাইনাশক, সার বা অ্যান্টিবায়োটিক কম লাগলে তাঁরা নিয়মিত এসব খাদ্য খেতে বেশি আগ্রহী হবেন। সবচেয়ে ইতিবাচক নেদারল্যান্ডস, ৬৯ শতাংশ, এরপর সুইডেন, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক। সবচেয়ে কম ফ্রান্স, সাইপ্রাস ও গ্রিস, যথাক্রমে ২৩, ২১ ও ১৭ শতাংশ। প্রতিবেদনটি লিখেছেন অগাস্টাস ব্যামব্রিজ-সাটন।
ছবি: World Economic Forum / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: FoodNavigator





মন্তব্য
(০)