স্যাটেলাইট ছবি থেকে জমির মানচিত্র আঁকা ও ফসল শনাক্তের ব্যবস্থা গ্লোবাল অ্যানালিটিক্সের নতুন সংস্করণ এনেছে সুইজারল্যান্ডের এগ্রোটেক প্রতিষ্ঠান ওয়ানসয়েল (OneSoil)। প্রিসিশন কৃষির জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সরঞ্জাম তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি। প্রিসিশনঅ্যাগের গ্লোবাল অ্যাগ টেক ইনিশিয়েটিভে প্রকাশিত ঘোষণায় জানানো হয়েছে, ব্যবস্থাটি এখন ইউরোপসহ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও কাজাখস্তানের মতো ৪৫টির বেশি দেশে পাওয়া যাচ্ছে।
নতুন সংস্করণ আড়াই মিটার রেজোলিউশনের স্যাটেলাইট ছবি দিয়ে জমির সীমানা আরও নিখুঁতভাবে আঁকে, ফলে পাশাপাশি দুটি জমি আলাদা করে চেনা সহজ হয়। শনাক্ত করা ফসলের সংখ্যা ১২ থেকে বেড়ে ২৮ পর্যন্ত হয়েছে, গম, ভুট্টা ও সয়াবিন থেকে শুরু করে জলপাই, আঙুর ও কফি পর্যন্ত। কিছু দেশে মডেলগুলো মৌসুমও আলাদা করতে পারে, যেমন যুক্তরাষ্ট্রে শীতের ও গ্রীষ্মের ফসল আলাদা চেনে।
নতুন ফসল চেনাতে ওয়ানসয়েল নিজস্ব মেশিন লার্নিং মডেলকে প্রায় ২০ লাখ জমির তথ্যে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। কৃষক ও কৃষি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কয়েক বছরের কাজে এই তথ্যভান্ডার গড়া। ফসলের রেকর্ড ২০১৬ সাল পর্যন্ত পেছনে যায়, তাই ব্যবহারকারীরা সময়ের সঙ্গে ফসলচক্র কীভাবে বদলেছে, কৃষকের দেওয়া তথ্য ঠিক কি না এবং আঞ্চলিক প্রবণতা কী, তা দেখতে পারেন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, যাচাই করা বাজারগুলোতে ফসল শনাক্তের নির্ভুলতা সাধারণত ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ।
ওয়ানসয়েল বলছে, নিজস্ব মডেল না বানিয়েই এগ্রোটেক প্ল্যাটফর্মগুলো জমির সীমানা ও ফসলের তথ্য ব্যবহার করতে পারবে। খাদ্য প্রতিষ্ঠান কাঁচামালের এলাকায় চাষের অবস্থা বুঝতে পারবে, বীজ-সার প্রস্তুতকারকেরা বাজার পরিকল্পনা করতে পারবে, আর ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠান ঝুঁকি যাচাইয়ে জমিভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করতে পারবে।
ওয়ানসয়েলের প্রধান নির্বাহী স্তেপান জুলিনস্কি বলেন, "ব্যবস্থাটি নিয়ে আমরা খুব গর্বিত, কারণ এটি ফসলের বিস্তার ও চাষের এলাকার আরও বড় চিত্র দেয়।"
সূত্র: PrecisionAg




মন্তব্য
(০)