নরসিংদীর শিবপুরে দুই দফায় ধরা পড়া যে ছানাগুলোকে স্থানীয় লোকজন চিতাবাঘের বাচ্চা ভেবেছিলেন, সেগুলো আসলে বিরল প্রজাতির চিতাবিড়ালের ছানা। প্রথম আলোয় এ ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন বন্য প্রাণী সংরক্ষক ও লেখক সরওয়ার পাঠান। তাঁর পাঠানো ছবি ও ভিডিও দেখে বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ রেজা খান ও মনিরুল হাসান খান দুজনই প্রাণীগুলোকে চিতাবিড়াল বলে নিশ্চিত করেছেন।
প্রথম ঘটনাটি ২ মার্চের। শিবপুর থানার যশোর ইউনিয়নের সৃষ্টিগড় গ্রামে একটি ছানা ধরা পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিতাবাঘ দেখা যাওয়ার খবর ছড়ায়। বন অধিদপ্তরের বন্য প্রাণী পরিদর্শক নিগার সুলতানা সরওয়ার পাঠানকে জানান, ছানাটিকে উদ্ধার করে মায়ের অবস্থানের কাছে অবমুক্ত করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ঘটনা ১৫ আগস্টের। জয়নগর ইউনিয়নের জামগড় গ্রামে বাড়ির পাশের হলুদখেতে কাজ করতে গিয়ে মুরাদ হোসেন নামের একজন তিনটি ছানা দেখে বাড়িতে নিয়ে যান। সরওয়ার পাঠান সেখানে গিয়ে খাঁচাবন্দী ছানাগুলোকে হলুদখেতের পাশে নিয়ে যান। তখনই মা চিতাবিড়ালটিকে দৌড়ে সরে যেতে দেখা যায়। ছানাগুলোকে পাশের ঝোপে ছেড়ে দেওয়ার কিছুক্ষণ পর তাদের ডাক থেমে যায়, অর্থাৎ তারা মাকে খুঁজে পেয়েছে।
চিতাবিড়াল বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট বুনো বিড়াল। নিশাচর, গাছে থাকা এই শিকারির দেখা মেলে সুন্দরবন, বৃহত্তর চট্টগ্রাম, সিলেট ও গারো পাহাড়ের বনে। চিতাবাঘের ছোট সংস্করণের মতো দেখতে প্রাণীটির বাদামি-হলুদ শরীরে কালো ছোপ, বুক-পেট সাদা। ছোট পাখি, ইঁদুর, কাঠবিড়ালি, সরীসৃপ ও ব্যাঙ এদের প্রধান খাবার; দিন কাটায় গাছের ডাল, কোটর বা ঘন ঝোপে।
মাঝেমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় মেছোবিড়াল ধরা পড়লে মানুষ তাকে চিতাবাঘের বাচ্চা ভাবে। শিবপুরের ছানাগুলো মেছোবিড়াল বা বনবিড়াল ছিল না বলে জানান সরওয়ার পাঠান। একসময় দেশের অনেক জায়গায় চিতাবিড়াল ছিল, এখন সুন্দরবন আর কিছু পাহাড়ি বন ছাড়া প্রায় কোথাও নেই।
সরওয়ার পাঠানের মতে, স্থানীয়ভাবে ‘পাহাড়ি অঞ্চল’ নামে পরিচিত শিবপুরের এই এলাকায় অতীতে বহু বন্য প্রাণী ছিল, চিতাবিড়ালেরা তাদেরই শেষ সদস্য। জনবহুল জেলায় প্রাণীটির টিকে থাকা আশা জাগানো ঘটনা, তবে এ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা দরকার। বন বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
ছবি: Abujoy / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)