পাতার উপরিতল ঢেকে রাখা ধাঁধার টুকরার মতো কোষের আকার নিয়ন্ত্রণ করে এমন একটি জিন শনাক্ত করেছেন উত্তর সুইডেনের উমেও প্ল্যান্ট সায়েন্স সেন্টারের গবেষকেরা, আর দেখেছেন গাছ পানির অভাবে পড়লে জিনটির সক্রিয়তা ও কোষের আকার দুটিই বদলায়; খবরটি দিয়েছে গ্লোবাল এগ্রিকালচার। ইউরোপীয় অ্যাস্পেন (Populus tremula) গাছে করা এই কাজ খরায় উদ্ভিদ শারীরিকভাবে কীভাবে সাড়া দেয় সেই বোঝাপড়ায় নতুন তথ্য যোগ করেছে, যা খরা বাড়তে থাকায় উদ্ভিদ প্রজননবিদদের জন্য জরুরি প্রশ্ন।
প্রধান লেখক সিজিয়া লিউ এবং সিয়ামসা এম ডয়েল, ক্যাথরিন এম রবিনসন, জাহরা রাহনেশান, ন্যাথানিয়েল স্ট্রিট ও স্টেফানি রবার্টের গবেষণাটি জানুয়ারিতে প্রাক-প্রকাশের পর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে নিউ ফাইটোলজিস্ট সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। কেন্দ্রটি উমেও বিশ্ববিদ্যালয় ও সুইডিশ ইউনিভার্সিটি অব অ্যাগ্রিকালচারাল সায়েন্সেসের যৌথ গবেষণাকেন্দ্র।
পাতার উপরিতলে থাকে পেভমেন্ট কোষ, অনিয়মিত খাঁজকাটা কোষ যা ধাঁধার টুকরার মতো একটি আরেকটিতে আটকে থাকে এবং ধারণা করা হয় পাতার উপরিতলকে যান্ত্রিক চাপ সামলাতে সাহায্য করে। গবেষকেরা এদের আকারের পেছনে এমওয়াইবি (MYB) পরিবারের একটি ট্রান্সক্রিপশন ফ্যাক্টর জিন খুঁজে পান; এ ধরনের প্রোটিন অন্য জিন চালু-বন্ধ করে। পর্যাপ্ত পানিতে কোষগুলো জটিল ও পরস্পর আটকানো থাকে; খরায় সেগুলো সরল ও গোলাকার হয়ে যায়, যা জিনটির সক্রিয়তা কমার সঙ্গে যুক্ত।
সম্পর্ক নয়, কারণ প্রমাণ করতে গবেষকেরা জিন সম্পাদনা দিয়ে কিছু অ্যাস্পেনে জিনটি বন্ধ করেন, কিছুতে বাড়িয়ে দেন। জিন বন্ধ গাছে খরায় কোষের আকার বদল ঠেকানো গেছে, আর বেশি সক্রিয় গাছ বদলের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়েছে। মাত্রাভেদে এই সাড়া বলে দেয়, গাছ জিনটিকে সূক্ষ্মভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, শুধু চালু-বন্ধ করে না।
সুইডেনের বুনো অ্যাস্পেন জনগোষ্ঠীতে দেখা গেছে, যেসব গাছের পূর্বপুরুষ শুষ্ক এলাকা থেকে এসেছে, সেগুলোতে ভেজা এলাকার গাছের চেয়ে জটিল কোষের সঙ্গে যুক্ত জিনরূপ বেশি, যা পানির প্রাপ্যতার সঙ্গে স্থানীয় অভিযোজনের ইঙ্গিত দেয়। গ্লোবাল এগ্রিকালচারের মতে, এই ফলাফল ভবিষ্যতে ফসলের উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণাতেও কাজে লাগতে পারে।
ছবি: Arnstein Rønning / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





মন্তব্য
(০)