বাণিজ্যিক খামার ও স্টাড ব্রিডাররা বহু বছর ধরে যে প্রজনন প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন, তা এখন দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের সাধারণ, অর্থাৎ যৌথ জমিতে পশু পালন করা খামারিদের কাছে নিয়ে যাচ্ছে মাঙ্গোসুথু ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (Mangosuthu University of Technology, এমইউটি)। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রভাষক ও প্রাণিপ্রজনন বিশেষজ্ঞ ড. হেলেন মাপেকা (Helen Mapeka) ৭ অক্টোবর ২০২৬ সালের রয়্যাল অ্যাগ্রিকালচারাল শোর টেকনোলজি অ্যান্ড এডুকেশন হাবে এই কাজের কথা তুলে ধরেন।
সমস্যাটা কোথায়, তা-ও বলেন তিনি। কোয়াজুলু-নাটালে সাধারণ খামারিদের হাতে প্রচুর গবাদিপশু আছে, কিন্তু অনেক পশুই উৎপাদনের সম্ভাবনা পর্যন্ত পৌঁছায় না। দুর্বল প্রজনন, পশুর সংখ্যা কমে যাওয়া, হিসাব না রাখা আর পশুর মানে অসমতা তাঁদের আনুষ্ঠানিক পশুর বাজার থেকে দূরে রাখছে।
সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি মানে প্রাকৃতিক মিলনের ওপর পুরোপুরি ভরসা না করে প্রজননে সাহায্য বা নিয়ন্ত্রণ: কৃত্রিম প্রজনন, গরম আসা একসঙ্গে মেলানো (ইস্ট্রাস সিনক্রোনাইজেশন), ভ্রূণ স্থানান্তর, সুপারওভুলেশন, নিয়ন্ত্রিত মিলন ও বীজের লিঙ্গ বাছাই। কৃত্রিম প্রজননে বাছাই করা ষাঁড়ের সংরক্ষিত বীজ ব্যবহার হয়, ফলে খামারি এমন উন্নত জাত পান, যা হয়তো তাঁর সামর্থ্যের বাইরে ছিল। হরমোন দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গাভীর গরম আনা হলে অল্প সময়ে প্রজনন করানো যায়, বাছুরও জন্মায় কাছাকাছি সময়ে।
এমইউটির প্রকল্পটি শুরু হয় ২০২৪ সালের আগস্টে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের অর্থায়নে। দক্ষিণ কোয়াজুলু-নাটালের উমজিমকুলুর কাছে রিয়েটসডেলে ৩৩ জন খামারি এতে যুক্ত। শুরুতে স্থানীয় খামারি, বেকার তরুণ, কৃষিতে যুক্ত নারী ও এমইউটির প্রাণী উৎপাদন বিভাগের শিক্ষার্থীদের দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণ হয়। ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি দলটি ৯০টি গাভী পরীক্ষা করে, কানে ট্যাগ লাগায় ও গর্ভ নির্ণয় করে; এর মধ্যে ৪৯টি গাভীকে কৃত্রিম প্রজননের জন্য হরমোন দিয়ে প্রস্তুত করা হয়। কাজে অংশ নেন তৃতীয় বর্ষের ১৮ জন শিক্ষার্থী। মাপেকা কৃত্রিম প্রজননে জন্মানো বাছুরের ছবি দেখান এবং জানান, ছাগলের একটি কর্মসূচিতে যমজ ও তিনটি করে বাচ্চা হওয়ার হার ছিল বেশি।
তাঁর মতে, প্রথম শিক্ষা প্রযুক্তি নয়, মৌলিক কাজ: পশু চিহ্নিত করা আর প্রজননের হিসাব রাখা। উদাহরণ হিসেবে, যা প্রকৃত নিলামের ফল নয়, তিনি একই রকম দুটি বোরান জাতের পশুর তুলনা দেন: পূর্ণ প্রজনন ও বংশের হিসাবসহ পশুটি ১ লাখ র্যান্ডে বিক্রি হলো, হিসাব ছাড়া পশুটি মাত্র ১০ হাজার র্যান্ডে। ক্রেতা শুধু চেহারা দেখে পশুর প্রজনন সম্ভাবনা বুঝতে পারেন না, বলেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়টি কোয়াজুলু-নাটালের কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদেরও প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যাঁদের মধ্যে প্রাণিস্বাস্থ্য কর্মী ও পশুচিকিৎসক আছেন। প্রজনন প্রযুক্তিতে স্বল্পমেয়াদি দক্ষতা কোর্সও চালায় এমইউটি, আর যোগ্য প্রশিক্ষণার্থীদের কৃষি বিভাগে নিবন্ধিত প্রজনন কর্মী হতে সাহায্য করে। এটি নিয়ন্ত্রিত পেশা; মাপেকার মতে, এতে তরুণদের আত্মকর্মসংস্থানের পথ খুলতে পারে।
প্রযুক্তি কেন্দ্রটি এ বছরই প্রথম চালু হয়, রয়্যাল অ্যাগ্রিকালচারাল সোসাইটির ১৭৫ বছর পূর্তিতে, শোর নতুন ঠিকানা টুইডিতে, ৭ থেকে ১১ অক্টোবর। পাঁচ দিনের ছোট ছোট উপস্থাপনায় ছিল প্রিসিশন লাইভস্টক ফার্মিং, প্রজনন, পশু চুরির আগাম সতর্কতাসহ খামারের নিরাপত্তা, সৌরশক্তি ও বিদ্যুৎ খরচ, পানি, মাটির স্বাস্থ্য ও যান্ত্রিকীকরণ। বক্তা ছিলেন অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিল, বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি কলেজ ও শিল্পের প্রতিনিধিরা।
মূল প্রতিবেদন: হানলি দ্যু প্লেসি, Farmers Weekly South Africa।
ছবি: Aleks / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Farmers Weekly South Africa





মন্তব্য
(০)