গবাদিপশুর সুস্থতা ওষুধের চেয়ে প্রতিদিনের যত্নের ওপর বেশি নির্ভর করে, বলছেন দক্ষিণ আফ্রিকার রেড মিট ইন্ডাস্ট্রি সার্ভিসেসের (Red Meat Industry Services, আরএমআইএস) প্রাণিসম্পদ কারিগরি পরামর্শক গচিনিখায়া শান্তিবে (Gcinikhaya Xhantibe)। প্রাণিসম্পদ নিয়ে সাম্প্রতিক এক ওয়েবিনারে তিনি প্রত্যেক খামারির জন্য জরুরি কয়েকটি অভ্যাসের কথা বলেন: রোগ শনাক্ত ও প্রতিরোধ, পুষ্টি, টিকাদান, পরজীবী দমন এবং জৈব নিরাপত্তা।
প্রথম কাজ খামারে রোগ ঢুকতে না দেওয়া, আর অসুস্থ পশুকে এত আগে চেনা যাতে চিকিৎসা দেওয়া যায়। শান্তিবে বলেন, "আমরা ওষুধের দিকে বেশি নজর দিই, পুষ্টির কথা ভুলে যাই।" তাঁর মতে, পশুকে ভালো শারীরিক অবস্থায় রাখতে হবে, আর তার শুরু খাবার থেকে।
দ্রুত পরীক্ষার জন্য তিনি চোখের কথা বলেন। সুস্থ পশুর চোখ উজ্জ্বল ও সজাগ থাকে, পানি পড়ে না; পশুর শরীরে পানির ঘাটতি আছে কি না, তা-ও চোখে বোঝা যায়। খামারিদের পশুর বডি কন্ডিশন স্কোর, অর্থাৎ শরীরের গড়ন কতটা ভালো, তা-ও নিয়মিত দেখতে হবে। পশু খুব রোগা বা খুব মোটা হলে তার প্রজননক্ষমতায় প্রভাব পড়ে।
খাবারের মতোই জরুরি পানি। শান্তিবে বলেন, পশুকে যে পানি খেতে দেওয়া হচ্ছে, তা এমন হতে হবে যা খামারি নিজেও খেতে রাজি। পানি পরিষ্কার হলে পশু বেশি পানি খায়, আর বেশি পানি খেলে তার খাওয়ার রুচিও বাড়ে।
বাছুরের ক্ষেত্রে তাঁর পরামর্শ, জন্মের তিন মাসে কৃমিনাশক দিতে হবে, ছয় মাসে টিকা। বছরের টিকাদান কর্মসূচি ঠিক করতে খামারিদের নিজ এলাকার সরকারি পশুচিকিৎসক বা প্রাণিস্বাস্থ্য কর্মীর কাছে যাওয়া উচিত, কারণ ওই এলাকায় কোন রোগ হয়, তা তাঁরাই সবচেয়ে ভালো জানেন।
জৈব নিরাপত্তাকে তিনি প্রথম প্রতিরক্ষা বলেন। খামারে নতুন আনা পশুকে ২৮ দিন আলাদা রাখতে হবে, এবং এ সময়ে অসুস্থতার কোনো লক্ষণ না দেখা দিলে তবেই পালের সঙ্গে মেশাতে হবে।
সবশেষে হিসাব রাখা। শান্তিবে খামারিদের প্রতিদিন পশুর জন্য যা যা করা হলো, সব লিখে রাখতে বলেন; দীর্ঘ মেয়াদে এই অভ্যাস কাজে দেয় বলে তাঁর মত।
মূল প্রতিবেদন: ওলওয়াম এমনিয়ান্দে, Food for Mzansi।
ছবি: Justinjerez / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Food for Mzansi





মন্তব্য
(০)