চলমান হাম প্রাদুর্ভাবের পর বাংলাদেশে ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি (পারটুসিস) ও পোলিওর মতো প্রাণঘাতী রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একটি স্বাধীন কমিটি। অক্টোবরের শুরুতে দেশের টিকাদান কর্মসূচি মূল্যায়নের পর তৈরি তাদের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি সোমবার এ খবর দিয়েছে, জানিয়েছে সমকাল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে, গত মার্চ থেকে চলা এই প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত হয়েছে দুই লাখ ২০ হাজার মানুষ। কয়েক দশকের মধ্যে এটিই দেশে হামের সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাদুর্ভাব। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম দেশের দুর্বল হয়ে পড়া টিকাদান ব্যবস্থার একটি সতর্কসংকেত।
মূল্যায়নে দেখা গেছে, জাতীয় লক্ষ্য ৯৫ শতাংশ হলেও পূর্ণ টিকা পেয়েছে মাত্র ৮২ শতাংশ শিশু। টিকাদান কর্মীদের প্রায় ৪০ শতাংশ পদ শূন্য। কোল্ড চেইন টেকনিশিয়ানের ৫৩ শতাংশ, স্বাস্থ্য সহকারীর ৩৪ শতাংশ এবং ইপিআই সদরদপ্তরের ৪৫ শতাংশ পদ খালি; তদারকির পদে শূন্যতা ৩২ থেকে ৪৩ শতাংশ। শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠী, সীমান্ত ও দুর্গম এলাকার শিশুরা স্থানীয় পরিকল্পনার দুর্বলতায় টিকা থেকে বাদ পড়ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকি না কমালে বড় আকারে হুপিং কাশি, ডিপথেরিয়া এবং এমনকি টিকা থেকে উদ্ভূত পোলিও ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কেবল সময়ের ব্যাপার। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে খোলা জায়গায় চিকিৎসাবর্জ্য পোড়ানো আর ধারালো সরঞ্জাম আলাদা না করার মতো অনিয়মও উঠে এসেছে।
সুপারিশের মধ্যে আছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি টাস্কফোর্সের তত্ত্বাবধানে দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ, পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত বাদ পড়া টিকা দেওয়ার সুযোগ, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের মধ্যে এইচপিভি টিকা সম্প্রসারণ, ওয়ার্ডভিত্তিক টিকাদান পরিকল্পনা হালনাগাদ করে কখনো টিকা না পাওয়া শিশুদের খুঁজে বের করা, এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে গ্যাভি ও পোলিও কর্মসূচির রূপান্তরের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা।
প্রতিবেদনটি সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জাহিদ রায়হান বলেন, সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে যত দ্রুত সম্ভব টিকাদানকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, গ্যাভিসহ সহযোগীদের সহায়তায় ৭০ সদস্যের একটি দল এ মাসের শুরুতে মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছিল।
১৯৭৯ সালে কর্মসূচি শুরুর পর বাংলাদেশ পোলিও ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার নির্মূল করেছিল, রুবেলা ও হেপাটাইটিস-বিও নিয়ন্ত্রণে এনেছিল। ২০২৪ সালে পরিকল্পিত হামবিরোধী টিকাদান অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় পিছিয়ে যায়, ২০২৫ সালের কর্মসূচিও ধর্মঘট ও অস্থিতিশীলতায় ব্যাহত হয়।
ছবি: ঢাকা শিশু হাসপাতালে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি, ২০২০, প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্ট / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)