দেশের নানা জেলা ও দুর্গম এলাকা থেকে হামে আক্রান্ত শিশুরা নিউমোনিয়ার জটিলতা নিয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে আসছে। হাসপাতাল সূত্রে, এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিশু এখানে চিকিৎসা নিয়েছে, মারা গেছে অন্তত ৯৭ থেকে ৯৮ জন। এখন ভর্তি আছে ৯৭টি শিশু, যার ২৫টি সোমবারই ভর্তি হয়েছে।
যশোরের ঝিকরগাছা থেকে ২ মাস ২৭ দিনের আয়মান সাদিককে নিয়ে এসেছেন মা সানজিদা খাতুন। স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে টানা ১৬ দিন রেখেও উন্নতি হয়নি, হামের পর নিউমোনিয়া আরও বেড়েছিল। নোয়াখালীর হাতিয়ার জাহাজমারা থেকে দুই বছরের হামিদাকে নিয়ে এসেছেন নুরজাহান বেগম; ১৫ থেকে ২০ দিন জ্বর আর ফুসকুড়ির পর রক্ত পরীক্ষায় ম্যালেরিয়াও ধরা পড়ে, তারপর শুরু হয় তীব্র শ্বাসকষ্ট।
হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, মূল সমস্যা চিকিৎসা শুরুতে দেরি। দুর্গম এলাকায় হাম ঠিকমতো শনাক্ত হচ্ছে না, নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা দেওয়ার পরও ফেলে রাখা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, হামের সবচেয়ে বড় জটিলতা নিউমোনিয়া, সঙ্গে আছে অপুষ্টি; ভর্তি শিশুদের প্রায় ৯০ শতাংশই অপুষ্টিতে ভুগছে, তাতে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভেঙে পড়ছে।
মেডিকেল অফিসার মার্জিয়া আফরোজ জানান, নবজাতক থেকে দুই বছর বয়সী শিশুরা, বিশেষ করে যারা নিয়মিত টিকা পায়নি, সবচেয়ে ঝুঁকিতে। হামের সঙ্গে ডায়রিয়া, বমি, খিঁচুনি বা নিউমোনিয়া হলে সাধারণ অক্সিজেনে শ্বাসকষ্ট সামলানো যায় না; তখন আইসিইউ, এমনকি ভেন্টিলেশন লাগে।
কিন্তু ৭০০ শয্যার হাসপাতালটিতে আইসিইউ শয্যা মাত্র ১৪টি। জনবলও কম; ডা. মার্জিয়া আফরোজের কথায়, যত জটিল রোগী আসছে, সেই অনুপাতে চিকিৎসক, নার্স ও অন্য কর্মী অনেক কম। পরিচালক জানান, এখন প্রায় ৩০০ চিকিৎসক কাজ করছেন, আগামী মাসের মধ্যে আরও ৫০ জন নিয়োগের পরিকল্পনা আছে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, শিশু যেন জটিল অবস্থায় না পৌঁছায় সে জন্য নির্ধারিত সময়ে নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করাই প্রধান উপায়। জ্বর, সর্দি-কাশি বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে শুরুতেই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে; শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, বারবার বমি বা ডায়রিয়ার মতো বিপৎসংকেত দেখামাত্র শিশুকে দ্রুত বিশেষায়িত হাসপাতালে নিতে হবে।
প্রতিবেদনটি প্রথম আলোর।
ছবি: ঢাকার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট, Md Joni Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)