ভারতের কেন্দ্রীয় সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিএআর-সিএমএফআরআই (CMFRI) মহারাষ্ট্রের জেলে ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে হ্যাচারিতে উৎপাদিত আরও ৫ লাখ সবুজ ঝিনুকের (গ্রিন মাসেল) বাচ্চা সরবরাহ করেছে। অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম জানিয়েছে, এ নিয়ে গত ছয় মাসে মোট ১০ লাখ বাচ্চা দেওয়া হলো।
২ থেকে ৪ মিলিমিটার আকারের এসব বাচ্চা তৈরি হয়েছে প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনার আওতায়, তিরুবনন্তপুরমে সিএমএফআরআইয়ের ভিজিনজাম আঞ্চলিক কেন্দ্রের বাইভালভ হ্যাচারিতে। প্রতিষ্ঠানের মাদ্রাজ আঞ্চলিক স্টেশন থেকে আরও ১ লাখ অয়েস্টারের বাচ্চাও রাজ্যটিতে পাঠানো হয়েছে। সিএমএফআরআইয়ের পরিচালক ড. গ্রিনসন জর্জ (Grinson George) বলেন, লক্ষ্য হলো মহারাষ্ট্র উপকূলে টেকসই ঝিনুক চাষের মাধ্যমে সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণাকে জীবিকায় রূপ দেওয়া।
প্রধান বিজ্ঞানী ড. এম কে অনিলের নেতৃত্বে একটি দল মহারাষ্ট্রের ম্যানগ্রোভ সেলের ৩০ জন কর্মকর্তাকে ঝিনুক ও অয়েস্টারের নার্সারি পালন ও চাষের প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যাতে তাঁরা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে পদ্ধতিগুলো পৌঁছে দিতে পারেন। কৃষকদের যুক্ত করার কাজ সমন্বয় করছে মহারাষ্ট্রের ম্যানগ্রোভ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফাউন্ডেশন; প্রকল্পে সহায়তা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় মৎস্য বিভাগ।
ড. জর্জ বলেন, "ঝিনুক চাষ কম বিনিয়োগ ও কম পরিচালন খরচের প্রযুক্তি, যা বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি উপকূলের জীবিকা জোরদারে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।" উপযুক্ত জায়গায় একবার চাষ দাঁড়িয়ে গেলে, পানির মান ঠিক থাকলে ঝিনুক ও অয়েস্টারে বাইরের উপকরণ খুব কম লাগে; সঠিক স্থান নির্বাচন, পর্যবেক্ষণ ও আহরণে উপকূল ও ম্যানগ্রোভ এলাকায় স্থায়ী আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। পানি ছেঁকে খায় বলে ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধারের সঙ্গে ঝিনুক চাষ পানির মান উন্নত করতেও সাহায্য করে, যোগ করেন তিনি।
ছবি: Veronidae (green mussels, Perna viridis) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: AgroSpectrum





মন্তব্য
(০)