পাবনায় শুঁটকি তৈরির ভরা মৌসুমে এবার দেখা দিয়েছে মাছের সংকট। চলতি মৌসুমে জেলার শতাধিক চাতালে প্রায় ১৮ কোটি টাকা মূল্যের ২০০ টন শুঁটকি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কিন্তু নদ-নদী আর খাল-বিলে জেলেদের জালে পর্যাপ্ত মাছ উঠছে না। ফলে অনেক চাতাল ফাঁকা পড়ে আছে, শ্রমিকেরা কাজ না পেয়ে অলস সময় কাটাচ্ছেন।
ব্যবসায়ীদের হিসাবে ২০০ টন শুঁটকি তৈরিতে প্রায় ৬০০ টন কাঁচা মাছ লাগে; তিন কেজি তাজা মাছ শুকিয়ে এক কেজি শুঁটকি হয়। মাছ কম পাওয়ায় এবারের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কম হতে পারে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। মৌসুমের শুরুতে বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে চাতাল তৈরি করা হয়েছে, স্থানীয় জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীদের অগ্রিম টাকাও দেওয়া হয়েছে। তাই মাছের এই আকালে চাতালমালিকদের হতাশা বাড়ছে।
পাবনা জেলায় ১৬টি নদী ও ২১২টি বিল রয়েছে। সবচেয়ে বড় গাজনার বিল, ১৫টি বিল ও ৭টি নদী মিলে সুজানগর উপজেলায় এর বিস্তার। এই উপজেলার মসজিদপাড়া গ্রাম 'শুঁটকি গ্রাম' নামে পরিচিত; গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবার শুঁটকির কাজে যুক্ত। কাজলকুড়া, ঘুঘুদাহ, মুক্তারহার, সোনাই, জামাইদহসহ বিভিন্ন বিল ও নদীতেও এবার কাঙ্ক্ষিত মাছ মিলছে না।
চাতালে পুঁটি, খলসে, চেলা, টেংরা, কৈ, মাগুর, শিং, বাতাসি, চিংড়ি, টাকি, বাইম, বোয়াল, শোল, গজারসহ নানা দেশি মাছ শুকিয়ে শুঁটকি করা হয়। মান অনুযায়ী শুঁটকি 'এ', 'বি' ও 'সি' গ্রেডে বাছাই হয়। 'এ' গ্রেডের শুঁটকি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কাতারসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাঙালিদের কাছে রপ্তানি হয়। 'বি' ও 'সি' গ্রেডের শুঁটকি যায় দিনাজপুর, সৈয়দপুর, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের বাজারে।
শুঁটকি উৎপাদক জামাল উদ্দিন বলেন, দেশে-বিদেশে মিঠা পানির শুঁটকির চাহিদা ব্যাপক হলেও মৎস্য বিভাগ এ বিষয়ে উদাসীন। ব্যাংকঋণ না পাওয়ায় মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে ব্যবসা চালাতে হয়, আর সময়মতো পরিচর্যা না হলে শুঁটকি নষ্ট হয়ে পুঁজি হারানোর ঝুঁকি থাকে। ব্যবসায়ীরা শুঁটকি সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সঠিক ব্যবস্থা না থাকার কথাও বলছেন।
ব্যবসায়ী মো. ফারুক শেখ জানান, পাবনার সহস্রাধিক পরিবার শুঁটকি তৈরির কাজে জড়িত। চাতালে দিনমজুরিতে নারী-পুরুষ শ্রমিকেরা দিনে ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকা পান, তাই মাছ কম মানে তাঁদের রোজগারও কমে যাওয়া।
পাবনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দীপক কুমার পাল বলেন, জেলায় ২০০ টন শুঁটকি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও নদ-নদীতে পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় তা অর্জন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদন: কৃষি সময়ের পাবনা সংবাদদাতা।
ছবি: শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ (বাংলাদেশ), Kmonsoor / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)