ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ও চিলারং ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া শুক নদীর বুড়ির বাঁধে শুরু হয়েছে মাছ ধরার উৎসব। শুক্রবার রাতে বাঁধের পাঁচটি গেট খুলে দেওয়া হয়; পানি কমার পর শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোর থেকে আশপাশের গ্রামের জেলেসহ জেলার নানা প্রান্তের হাজারো নারী-পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধ মাছ ধরতে নামেন।
কেউ জাল, পলো, খোঁচা ও লাফিজাল নিয়ে, আবার যাঁদের সরঞ্জাম নেই তাঁরা কাদাপানিতে নেমে হাত দিয়েই মাছ ধরছেন। ফিকা, লাফি, কারেন্ট, রিং ও চটকা জাল নিয়েও এসেছেন অনেকে। স্থানীয় মোজাম্মেল হক ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত পুঁটি ও টেংরাসহ প্রায় দুই কেজি মাছ পেয়েছেন।
তবে অন্য বছরের তুলনায় এবার মাছ কম। জেলা শহরের মিতুল হাসান বলেন, প্রতিবছর তিনি এখানে আসেন, দিনটি মেলায় পরিণত হয়; কিন্তু ব্যবসায়ীদের পাতা রিং জালের কারণে সাধারণ শিকারিরা কম মাছ পাচ্ছেন। জেলেরা জানান, জলকপাট কয়েক দিন খোলা থাকে, প্রথম দিনে ভিড় সবচেয়ে বেশি; গত দুই-তিন বছর ধরে রিং ও কারেন্ট জালে দেশি মাছ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যে, শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে সেচ দিতে ১৯৫১-৫২ সালের দিকে শুক নদীতে এ জলকপাট নির্মাণ করা হয়, পরে যা বুড়ির বাঁধ নামে পরিচিতি পায়। বর্ষায় উঁচু জমিতে চাষের সুবিধায় এখানে পানি আটকে রাখা হয়, আর সেই পানিতে জেলা মৎস্য অধিদপ্তর বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ছাড়ে; আকচা ও চিলারং ইউনিয়ন পরিষদ সেগুলো দেখভাল করে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান বলেন, বাঁধের সামনে একটি মৎস্য অভয়াশ্রম আছে। শীতের শুরুতে বাঁধের পানি ছেড়ে দেওয়ার পর এলাকাটি মাছ ধরার জন্য উন্মুক্ত করা হয়, এভাবেই প্রতিবছর এ উৎসব হয়ে আসছে।
প্রতিবেদনটি দেশ রূপান্তরের ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধির।
ছবি: বাংলাদেশে পানি কমার পর মাছ ধরার উৎসব, Mahinur11 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0); প্রতীকী ছবি
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)