নড়াইলের কৃষিজমিতে মাটি কেটে অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের খোঁড়ার হিড়িক পড়েছে। এক শ্রেণির মৎস্য ব্যবসায়ী মোটা টাকার প্রস্তাব দিয়ে কৃষকদের জমি নিয়ে উঁচু বাঁধ ও গভীর ঘের তৈরি করছেন। এতে বর্ষায় নিচু এলাকার পানি নামার স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আর তিন ফসলি উর্বর জমি স্থায়ীভাবে ফলনক্ষমতা হারাচ্ছে।
লোহাগড়া উপজেলার কুমড়ির বিল, চাচড়ীর বিল, পাটেরশরী বিল, আমাদার বিল, ঘাঘার বিল ও ইছামতীর বিলসহ অন্তত ২০টি বিলের হাজার হাজার একর জমিতে এখন পাঁচ থেকে ছয় মাস পানি জমে থাকে। সময়মতো চাষ করতে না পেরে এসব মাঠের কৃষকেরা বড় ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
আমাদার বিলের কৃষক রইচ উদ্দীন টিপু জানান, বিলে এত ঘের কাটার কারণে মধুমতী নদী থেকে আর পানি ঢোকে না, অনেক জমি বছরের পর বছর অনাবাদি পড়ে থাকে। 'এখন আর তিন ফসল হয় না,' বলেন তিনি। ঘাঘার বিলের কৃষক মাসুদ পারভেজও একই কথা বলেছেন। দিনোনাথপাড়া গ্রামের কৃষক মশিয়ার রহমানের ভাষ্য, একসময় ইছামতী বিলে বছরে একাধিকবার ফসল হতো, কিন্তু কয়েক বছর ধরে পানি আটকে থাকায় একটির বেশি ফসল করা যাচ্ছে না।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের হিসাবে, জেলার তিন উপজেলার ৫৭টি বিলে মোট ৫ হাজার ৩৯১টি মাছের ঘের আছে। অন্তত ২০টি বিলে অপরিকল্পিত খননের ফলে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার হেক্টর তিন ফসলি জমি দুই ফসলিতে পরিণত হয়েছে, আর দুই হাজার হেক্টর জমি স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নড়াইলের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আরিফুল রহমান বলেন, কৃষিজমিতে ঘের করতে হলে জমির শ্রেণি পরিবর্তন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক; কিন্তু এক শ্রেণির মানুষ আইন না মেনেই ঘের খুঁড়ছেন।
ক্ষতি শুধু ফসলের নয়। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) নড়াইলের সভাপতি শাহ আলম বলেন, উন্মুক্ত জলাশয় কেবল মাছ চাষের জায়গা নয়; ঘের খননে জমি ব্যক্তির দখলে চলে যাচ্ছে, প্রাকৃতিক সম্পদে সাধারণ মানুষের অধিকার হারাচ্ছে। লোহাগড়া সরকারি কলেজের কৃষি বিভাগের সাবেক প্রধান কৃষিবিদ ওবায়দুর রহমান সেন্ট জানান, উন্মুক্ত বিল পরিযায়ী ও দেশি পাখির আশ্রয়স্থল; ঘেরের কারণে পাখির খাদ্য ও আশ্রয়ের সংকট দেখা দিচ্ছে, কমছে জলজ প্রাণীও।
প্রতিবেদন: কৃষি সময়ের নড়াইল সংবাদদাতা।
ছবি: লোহাগড়া, নড়াইল, Mazharul Sabuz / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)