ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধের ১৭ দিন পার হলেও ভোলার লালমোহন উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় ১৬ হাজার ৫৭৫ জন জেলে তাঁদের বরাদ্দের মৎস্য ভিজিএফ চাল পাননি। জনপ্রতি ২৫ কেজি করে এই চাল ৭ অক্টোবরের মধ্যে বিতরণের কথা ছিল।
৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মৎস্য অভয়ারণ্য এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ। এ সময় ইলিশ ধরা, বিক্রি, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাত সবই দণ্ডনীয়। কর্মহীন জেলেদের জন্য সরকার এই সময়ে ২৫ কেজি করে চাল দেয়।
জেলেদের অভিযোগ, তালিকাভুক্ত হয়েও অনেক প্রকৃত জেলে চাল পান না। লালমোহনে ২৪ হাজারের বেশি জেলে তালিকাভুক্ত, অথচ চাল বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ২১ হাজার জনের জন্য। চাল বিতরণে অস্বচ্ছতার অভিযোগও বরাবরের।
মেঘনা পাড়ের জেলে কামরুল মাঝি, মাকসুদ মাঝি, আব্বাস মাঝি ও রুবেল মাঝি জানান, নিষেধাজ্ঞায় আয়ের মূল উৎস বন্ধ, সরকারি চালই তখন একমাত্র ভরসা। সময়মতো চাল না পাওয়ায় ঋণ বাড়ছে, সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ মেটানো যাচ্ছে না, এনজিওর কিস্তিও শোধ করতে হচ্ছে ধারদেনা করে।
বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা বলছেন, তালিকা প্রস্তুত ও যাচাই-বাছাইয়ে সমন্বয়ের অভাবে চাল বিতরণ দেরি হয়েছে, দ্রুতই তা শেষ হবে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমেদ আখন্দ জানান, চাল বিতরণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, দু-এক দিনের মধ্যে বিতরণ শেষ হবে।
নিষেধাজ্ঞা শেষ হতে আর পাঁচ দিন বাকি। মা ইলিশ রক্ষার এই কর্মসূচি সফল রাখতে জেলেদের নদীতে না নামা জরুরি, আর তার জন্য সহায়তার চাল সময়মতো পৌঁছানোই সবচেয়ে বড় শর্ত।
প্রতিবেদনটি দৈনিক বাংলার লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধির।
ছবি: ভোলায় মেঘনার পাড়ে জেলেদের নৌকা, Toushik.hamid / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দৈনিক বাংলা





মন্তব্য
(০)