ধানখেত থেকে মিথেন নিঃসরণ কমানোর পদ্ধতি হাতে আছে, কিন্তু কৃষক তখনই তা গ্রহণ করবেন যখন এতে তাঁর লাভ হবে। ১২ অক্টোবর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আঞ্চলিক কার্যালয়ে জলবায়ু ও পরিচ্ছন্ন বায়ু জোটের (সিসিএসি) বার্ষিক সভার এক কর্মশালায় এ কথা বলেছে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি)।
ইরির নীতি বিশ্লেষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. আলিশের মির্জাবায়েভ বলেন, পর্যায়ক্রমে ভেজানো ও শুকানো (এডব্লিউডি) সেচ, উন্নত নাড়া ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য টেকসই চাষপদ্ধতি তৈরি আছে। ইরির গবেষণা ও কৃষক জরিপের ভিত্তিতে তিনি বলেন, সাশ্রয়ী যন্ত্র, প্রশিক্ষণ ও সঠিক প্রণোদনা না পেলে কৃষক এগুলো নেন না; সার ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া বিদ্যমান ভর্তুকিও চাষপদ্ধতি বদলাতে বাধা হতে পারে।
তিনি কম নিঃসরণের চালের জন্য বাড়তি দামের বাজার গড়ার প্রস্তাব দেন, যাতে ক্রেতা, চালকল ও ভোক্তা টেকসই উৎপাদনের খরচ ভাগ করে নেন; শুরুতে এমন বাজার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ালে পরে পদ্ধতিগুলো মূলধারায় ছড়াতে পারে।
আরেক বাধা পরিমাপ। নিঃসরণ কমানো প্রমাণে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও বড় বিনিয়োগ লাগে; যেহেতু কম নিঃসরণ সবার উপকার, তাই প্রমাণের খরচ কে দেবে, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। অর্থায়ন না থাকলে দেশগুলো বড় পরিসরে নিঃসরণ কমানোর বদলে শুধু পর্যবেক্ষণব্যবস্থা গড়তেই আটকে থাকতে পারে।
অন্য দেশের বক্তারাও একই সমস্যার কথা বলেন: কেনিয়ার প্রাণিসম্পদ বিভাগ নিঃসরণ তালিকা দিয়ে নীতি ও অর্থায়নের কথা, ব্রাজিলের কৃষি মন্ত্রণালয় কৃষক প্রণোদনা ও বায়োডাইজেস্টারসহ গোবর ব্যবস্থাপনার দায়ের কথা, আর ইন্দোনেশিয়া সমন্বয়, সক্ষমতা ও তথ্যের ঘাটতির কথা। কর্মশালাটি কপ৩১ ও কপ৩২-এর প্রস্তুতির অংশ।
ছবি: Prathvi Acharya (নিয়ন্ত্রিত পানির ধানখেত) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: IRRI





মন্তব্য
(০)