দক্ষিণ আফ্রিকার সামষ্টিক চারণভূমির পশুপালকেরা খামার থেকে পাওয়া মাসিক আয়ের গড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ খরচ করেন পশুর ওষুধে, তারপরও পশুর স্বাস্থ্য ও উৎপাদন ভালো হচ্ছে না। দেশটির কৃষি গবেষণা পরিষদের (এআরসি) এক গবেষণার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ফার্মার্স উইকলি।
কোয়াজুলু-নাটাল, লিম্পোপো ও ইস্টার্ন কেপের ৪৫৭টি পশুপালক পরিবারের ওপর করা এই বিশ্লেষণ ২০২৫ সালে প্রকাশিত হয়। বছরে গড় খরচ সবচেয়ে বেশি ভেড়ার ওষুধে, ৩ হাজার ৩৬৪ র্যান্ড। গরুতে ২ হাজার ৭৪৯ এবং ছাগলে ১ হাজার ৯১২ র্যান্ড।
প্রধান গবেষক ও কৃষি অর্থনীতিবিদ সিফে জান্তসি (Siphe Zantsi) বলেন, আয়ের এত বড় অংশ ওষুধে গেলে উন্নত জাত, বাড়তি খাদ্য বা অবকাঠামোয় বিনিয়োগের কিছুই থাকে না। কৃষকেরা তাই রোগ সামলাতেই টাকা ঢালেন, খামারের উৎপাদনক্ষমতা আর গড়ে ওঠে না।
খরচের একটি কারণ খামারের আকার। বাণিজ্যিক খামারিরা কম দামে বেশি পরিমাণে ওষুধ কেনেন এবং মেয়াদ শেষের আগেই ব্যবহার করে ফেলেন। কিন্তু অল্প পশুর মালিককেও একই মাপের বোতল কিনতে হয়, আর কিছু ওষুধ খোলার পরপরই ব্যবহার করতে হয় বলে বাকিটা নষ্ট হতে পারে। জরিপে ৮২ শতাংশের ছাগল ছিল, পালপ্রতি গড়ে ৩৮টি; গরুর মালিকদের ৮০ শতাংশের বেশির ৫০টির কম গরু।
চারণভূমি ভাগ করে ব্যবহারও বড় সমস্যা। রোগ ও পরজীবী এক পাল থেকে আরেক পালে সহজে ছড়ায়। জান্তসির ভাষায়, এলাকার সবাই একসঙ্গে না করলে একজনের ডিপিং, টিকা বা প্রতিরোধমূলক চিকিৎসায় লাভ হয় না। সরকারি বাজেট কমায় এলাকাভিত্তিক অভিযানও কমেছে।
শিক্ষাও একটি বিষয়। পরিবারপ্রধানদের গড় বয়স ৫৮, এক-তৃতীয়াংশ শুধু প্রাথমিক পর্যন্ত পড়েছেন, ১০ শতাংশের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। ফলে ওষুধের লেবেল বুঝতে অসুবিধা হয়, ভুলভাবে রাখা, মেশানো বা ভুল মাত্রায় দেওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
ছবি: Justinjerez / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Farmers Weekly South Africa




মন্তব্য
(০)