চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট, এই ছয় মাসে গবাদিপশু ও প্রাণিসম্পদ পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২১৭ শতাংশ। আয় দাঁড়িয়েছে ১০৪ দশমিক ৬৪ লাখ মার্কিন ডলারে, যা আগের ছয় মাসে ছিল ৩২ দশমিক ৯৯ লাখ ডলার। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রপ্তানি আয় হয়েছে ১৫৪ দশমিক ৪৭ লাখ ডলার, প্রায় ১৯৩ কোটি ৮ লাখ টাকা। অথচ পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই আয় ছিল ৮২ দশমিক ০৬ লাখ ডলার।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যে, বছরে মাংস উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ৯০ দশমিক ৭০ লাখ টন, চাহিদা ৭৮ দশমিক ১৪ লাখ টন। ডিম উৎপাদন ২ হাজার ৫০৯ কোটি ৪১ লাখ, চাহিদা ১ হাজার ৮৫৫ কোটি ৩৬ লাখ। দুধে এখনো ঘাটতি: বছরে উৎপাদন প্রায় ১৫৭ দশমিক ৫৩ লাখ টন, চাহিদা ১৬২ দশমিক ৭৯ লাখ টন। মাথাপিছু দৈনিক মাংসের প্রাপ্যতা ১৩৯ দশমিক ২৯ গ্রাম, ন্যূনতম চাহিদা ১২০ গ্রাম।
গত এক দশকে মাংসের উৎপাদন ২৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ, ডিমের ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং দুধের ৬৯ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়েছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এর পেছনে নীতিগত সহায়তা, উদ্যোক্তা তৈরি, গবাদিপশু ও পোলট্রির জাত উন্নয়ন এবং অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত উৎপাদনের উদ্যোগকে কারণ হিসেবে দেখছেন।
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক মনে করেন, উৎপাদন বর্তমানের অন্তত তিন গুণ বাড়ানো দরকার। অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে দাম মানুষের নাগালে রাখা এবং খামারে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দেন। বিএলআরআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ড. শহিদুল হক জোর দেন খামারিদের প্রণোদনা, বিমা, উন্নত জাত ও ন্যায্যমূল্যে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ছিল ১ দশমিক ৮১ শতাংশ, কৃষি জিডিপিতে ১৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪




মন্তব্য
(০)