আঙুরের সমান ছোট্ট ফলটি দেখতে একদম খুদে তরমুজের মতো, কিন্তু খেতে মচমচে শসার মতো, সঙ্গে লেবুর মতো টক স্বাদ। কিউকামেলন (Melothria scabra) শসা পরিবারের লতানো গাছ, আদি নিবাস মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকা। দক্ষিণ আফ্রিকার দোকানে এখনো এটি খুব কমই দেখা যায়।
গাউতেং প্রদেশের বাপসফন্টেইন ও কেম্পটন পার্কের মাঝামাঝি ক্লেইনক্রাক বুরডেরি (KleinKraak Boerdery) খামারের রিনা মেইয়ার (Rina Meijer) প্রথম ফলটির ছবি দেখেন পিন্টারেস্টে। বীজ কিনে ছোট পরিসরে পরীক্ষা করেন, এক বছর পর বড় জায়গায় লাগান। খামারটি এখন এক হেক্টরে কিউকামেলন চাষ করে; তাজা ফল যায় তশোয়ানে পাইকারি বাজারে, সেখান থেকে সবজির দোকান ও খুচরা বিক্রেতার কাছে, আর আচার বিক্রি হয় প্রিটোরিয়া কৃষকবাজারে ও অনলাইনে। তাজা ফল সালাদে, পানীয়তে বা নাশতা হিসেবে খাওয়া হয়; আচারে স্বাদ আরও টক হয়।
গাছটি উষ্ণতা পছন্দ করে: ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ভালো হয়, মেইয়ারের অভিজ্ঞতায় ৩০ ডিগ্রির আশপাশে সবচেয়ে ভালো, আর তুষারপাতে মরে যায়। সেপ্টেম্বরের শুরুতে প্রতিবেশীর কাছ থেকে পাওয়া গোবরে সমৃদ্ধ মাটিতে সেচ দিয়ে সরাসরি বীজ বোনেন তিনি। অঙ্কুরোদ্গম ধীর; এক মাসে চারা হয় মাত্র ১ সেন্টিমিটারের মতো। বোনার তিন-চার মাস পর ডিসেম্বরে ফল তোলা শুরু হয়, মে মাসে প্রথম তুষারপাতে শেষ। বহুবর্ষজীবী হলেও মরা গাছ ও শিকড় তুলে প্রতি সেপ্টেম্বরে নতুন করে বীজ বোনেন তিনি।
লতা মাচায় উঠে গেলে দ্রুত বাড়ে, তাই খাড়া বাগানেও এটি উপযোগী। ফল শক্ত থাকা অবস্থায় আঙুর বা জলপাইয়ের আকারে হাতে তুলতে হয়, তাতে গাছ ফল দিতে থাকে। মৌসুমে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মিলিলিটার পানি দেন তিনি। মেইয়ার বলেন, "কিউকামেলন চাষ তুলনামূলক সহজ, তবে ভালো ফলন ও মানসম্মত ফলের জন্য সঠিক জায়গা বাছাই, মাচা, সেচ, পোকা দমন আর ঠিকমতো ফল তোলা জরুরি।"
ছবি: Tigerente (fruit of Melothria scabra, the cucamelon) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Farmers Weekly South Africa





মন্তব্য
(০)