ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে প্রায় এক বিঘা জমিতে জাপানের জনপ্রিয় ফল পার্সিমনের বাগান গড়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা আশরাফ হোসেন স্বপন। দূর থেকে টমেটোর মতো দেখতে কমলা ও হলুদাভ ফলে এখন ভরে আছে গাছ; ছয় জাতের মধ্যে এবার পাঁচ জাতে ফল এসেছে।
দুই বছর আগে প্রথমে ৮০টি চারা লাগান স্বপন, পরে আরও ১০০টি। বাগানে আছে ফুয়ু, সুইট তাইকাওয়াসী, জিরো, চিকেন হার্ট, বিগ মোপান ও হাচিয়া জাত। ফলের আকর্ষণীয় রং, মিষ্টি স্বাদ আর কষমুক্ত বৈশিষ্ট্য দেখে বাণিজ্যিক চাষে আগ্রহী হন তিনি; তাঁর দাবি, বাগানের বেশির ভাগ ফলই কষমুক্ত। এলাকায় আগে কেউ এ ফল চাষ করেননি, তাই প্রতিদিন মানুষ বাগান দেখতে আসছেন।
স্বপন জানান, দেশের বিভিন্ন সুপারশপে পার্সিমন এখন প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশে শুরুতে কষযুক্ত জাতের চাষ হলেও এখন কষমুক্ত জাতে আগ্রহ বাড়ছে; তাঁর বাগানের ফল খেয়ে নতুন উদ্যোক্তারা সন্তুষ্ট হচ্ছেন বলে জানান তিনি।
চাষের হিসাবও দিয়েছেন তিনি: এক বিঘা জমিতে প্রায় ১২০টি চারা লাগানো যায়, পরিচর্যা অন্য ফলবাগানের মতোই, তবে ভালো ফলনের জন্য জৈব সার বেশি দিতে হয়।
ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কামরুজ্জামান বলেন, জেলার কোটচাঁদপুর, মহেশপুর ও কালীগঞ্জে কয়েকজন উদ্যোক্তা পার্সিমন চাষ করছেন, তবে কোন কোন জাত, তা তাঁর বিস্তারিত জানা নেই। সরকারিভাবে এখনো পার্সিমনের জাত উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের কার্যক্রম শুরু হয়নি; উদ্যোক্তারা দেশ-বিদেশের নানা উৎস থেকে চারা এনে চাষ করছেন, আর কৃষি বিভাগ তাঁদের প্রযুক্তিগত পরামর্শ দিচ্ছে।
প্রতিবেদন: টিপু সুলতান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ), আমার দেশ।
ছবি: পার্সিমন বা কাকি ফল (প্রতীকী), Slo-Silvija / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: আমার দেশ





মন্তব্য
(০)