ফসলে ভাইরাস প্রতিরোধ গড়তে বিজ্ঞানীরা যে জিন সম্পাদনা প্রযুক্তি ক্রিসপার-ক্যাস১৩ (CRISPR-Cas13) তৈরি করছেন, উদ্ভিদ ভাইরাসের দুটি পরিচিত প্রোটিন তা অকেজো করে দিতে পারে বলে দেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা; খবরটি দিয়েছে গ্লোবাল এগ্রিকালচার। উদ্ভিদরোগতত্ত্বের অধ্যাপক ডেভিড কুকের দলের গবেষণাটি স্ট্রেস বায়োলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
ক্যাস৯ ডিএনএ কাটে, কিন্তু ক্যাস১৩ লক্ষ্য করে আরএনএ। পটিভাইরাস ও টমেটো স্পটেড উইল্টের মতো সবচেয়ে ক্ষতিকর অনেক উদ্ভিদ ভাইরাসের জিন থাকে আরএনএ আকারে। তাই ভাইরাসের সঙ্গে মিলিয়ে নির্দেশিকা দেওয়া ক্যাস১৩ ভাইরাস বংশবৃদ্ধির সময় তার আরএনএ ধ্বংস করবে, গাছের ডিএনএ স্থায়ীভাবে না বদলেই।
গবেষকেরা পরীক্ষায় ব্যবহার করেন তামাকের আত্মীয় মডেল উদ্ভিদ নিকোটিয়ানা বেনথামিয়ানা। অ্যাগ্রোইনফিলট্রেশন পদ্ধতিতে পাতায় ক্যাস১৩ এনজাইম ঢোকানো হয়, সঙ্গে টার্নিপ মোজাইক ভাইরাস এবং গাছের পিডিএস জিনের বিরুদ্ধে নির্দেশিকা; পিডিএস নীরব হলে পাতা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। পাশাপাশি দেওয়া হয় পটিভাইরাসের প্রোটিন এইচসিপ্রো (HcPro) বা টমবাসভাইরাসের প্রোটিন পি১৯ (P19), যা দিয়ে ভাইরাস গাছের নিজস্ব আরএনএ প্রতিরক্ষা অচল করে। দুটিই ক্যাস১৩-কে কাজ করতে দেয়নি।
দমনক্ষমতা হারানো এইচসিপ্রোর একটি পরিবর্তিত রূপ ক্যাস১৩ আটকাতে পারেনি। অর্থাৎ গাছের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হারাতে ভাইরাস যে কৌশল ব্যবহার করে, সেটিই কৃত্রিম প্রতিরক্ষাকেও হারায়। লেখকদের ধারণা, ক্যাস১৩-এর নির্দেশক আরএনএ আর প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষার ছোট আরএনএ দেখতে কাছাকাছি হওয়ায় ভাইরাসের প্রোটিন দুটিকেই আটকে দেয়।
ব্যবহারিক বার্তাটি সতর্কতার: গবেষণাগারের দুর্বল ভাইরাসে কাজ করা ক্যাস১৩ বৈশিষ্ট্য মাঠের সক্রিয় ভাইরাসের কাছে ব্যর্থ হতে পারে। ভবিষ্যতের নকশায় এমন নির্দেশক আরএনএ লাগতে পারে যা ভাইরাস প্রোটিনে আটকায় না, অথবা আরেকটি প্রতিরোধ কৌশল। পটিভাইরাস আলু, মরিচ এবং বহু সবজি ও ডালফসলের ক্ষতি করে; গ্লোবাল এগ্রিকালচারের মতে, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে জিন সম্পাদনায় ভাইরাস প্রতিরোধী জাত নিয়ে কাজ করা বীজ ও জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানির জন্য এটি প্রাসঙ্গিক।
ছবি: Chandres / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





মন্তব্য
(০)