জয়পুরহাটে আলুর দাম উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম হওয়ায় লোকসানের ভয়ে হিমাগার থেকে আলু তুলছেন না অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ী। জেলার ২২টি হিমাগারে রাখা আলুর প্রায় ৪৫ শতাংশ এখনো পড়ে আছে, অথচ সংরক্ষণের মেয়াদ শেষ হবে ১৫ নভেম্বর, জানিয়েছেন আরটিভির জয়পুরহাট প্রতিনিধি।
গত মৌসুমে জেলায় ৯ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়। মৌসুমে দাম কম থাকায় পরে দাম বাড়ার আশায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ২২টি হিমাগারে ২ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন আলু রাখেন। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের হিসাবে স্টেরিক, কার্ডিনাল ও বারো-তেরো জাতের ৬০ কেজির এক বস্তা আলু উৎপাদনে খরচ সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৫০ টাকা, অথচ হিমাগার গেটে বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬৭০ টাকায়। দেশি পাকড়ি জাতের বস্তায় খরচ সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬০০ টাকা, বিক্রি ১ হাজার ৫০ টাকায়। জাতভেদে বস্তাপ্রতি লোকসান ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।
সদরের আমদই গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন জানান, ১৫০ বস্তা রেখেছিলেন, ৫০ বস্তা লাভ ছাড়াই বিক্রি করেছেন, বাকি ১০০ বস্তা এখন বেচলে অর্ধেক লোকসান। ক্ষেতলালের হিমাদ্রিপাড়ার কৃষক বাবু মিয়া হিমাগারে রাখার মেয়াদ ও আলুর দাম বাড়ানোর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। তিলাবদুল মধ্যপাড়ার ব্যবসায়ী আলাল হোসেন বলেন, তিন-চার বছর ধরে লোকসান গুনতে গুনতে তাঁর জমিজমা শেষ, ঋণ শোধে বাড়িও বিক্রি করতে হতে পারে।
চুক্তির মেয়াদ শেষে আলু না তোলা হলেও হিমাগার মালিকেরা বাড়তি টাকা চাইতে পারেন না, অথচ বিদ্যুৎ বিলসহ পরিচালন ব্যয় তাঁদেরই বহন করতে হয়। হিমাদ্রি হিমাগারের ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম বলেন, তাঁর হিমাগার থেকে ৫০ শতাংশ আলু বের হয়েছে; সরকার রপ্তানির সুযোগ দিলে কিছুটা ক্ষতি পোষানো সম্ভব। হিমাগার মালিকেরা জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সহায়তা চেয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা আলুর দাম বাড়ানো, রপ্তানির সুযোগ এবং সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। জেলা কৃষি বিপণন অফিস জানিয়েছে, মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে হিমাগারগুলোকে চিঠি দেওয়া হবে।
ছবি: Sargoth / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: আরটিভি





মন্তব্য
(০)