গত দুই বছর বন্যা না হওয়ায় জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলে চলতি রবি মৌসুমে মরিচ চাষে কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গত মৌসুমের ২৮০ হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে এবার ৩৫০ হেক্টর করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রায় ৬ হাজার মেট্রিক টন মরিচ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের প্রতিবেদনের বরাতে খবরটি দিয়েছে এগ্রিকেয়ার২৪।
উপজেলার সাধুরপাড়া, মেরুরচর ও নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের চরে মরিচের আবাদ বেশি। কৃষকেরা অ্যাস্টার ওয়ান, ফায়ার হট, বিজলী প্লাস ও জলশ্বয় জাতের মরিচ লাগাচ্ছেন। নিলক্ষিয়ার কুশলনগর উত্তরপাড়ার কৃষক সুলতান মিয়া বলেন, বন্যা না হওয়ায় এবার মরিচ চাষ ভালো হচ্ছে। সাধুরপাড়ার বাঙ্গালপাড়া গ্রামের সোলাইমান মিয়া বলেন, ভালো দাম পেলে কৃষকেরা আরও বেশি মরিচ চাষে উৎসাহিত হবেন।
তবে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকেরা। মেরুরচরের ভাটি কলকিহারা গ্রামের কৃষক আবু মূসা বলেন, লাভের সম্ভাবনা থাকায় মরিচ করছেন, কিন্তু বেশি বৃষ্টি হলে ক্ষতির আশঙ্কা আছে। জমিতে পানি জমলে গাছের গোড়া পচাসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
কৃষি বিভাগ রোগমুক্ত বীজ ও সুস্থ চারা বাছাই, ভালোভাবে জমি তৈরি, নির্ধারিত দূরত্বে চারা রোপণ এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দিচ্ছে। গোড়া পচা, ঢলে পড়া, পাতায় দাগ বা ফল পচা দেখা দিলে আক্রান্ত গাছ ও ফল সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। সাদা মাছি, থ্রিপস ও ফল ছিদ্রকারী পোকা ঠেকাতে নিয়মিত খেত দেখা এবং কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আমিনুল ইসলাম বলেন, ৩৫০ হেক্টরে আবাদের লক্ষ্য ধরে এ মৌসুমে প্রায় ৬ হাজার মেট্রিক টন মরিচ উৎপাদনের সম্ভাবনা আছে। দুই বছর বন্যা না হওয়ায় কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে, তবে ভারী বৃষ্টি হলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকছে। চারা রোপণ থেকে রোগবালাই দমন পর্যন্ত কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ছবি: Afifa Afrin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪




মন্তব্য
(০)