দেশের উদ্বৃত্ত আলু কাজে লাগাতে আলু থেকে স্টার্চ পাউডার উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, উত্তরাঞ্চলে শিগগিরই ৮ থেকে ১০টি স্টার্চ কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হবে এবং এসব কারখানার স্টার্চ বিদেশে রপ্তানি করা হবে। দৈনিক ভোরের ডাকের প্রতিবেদনের বরাতে খবরটি দিয়েছে এগ্রিকেয়ার২৪।
প্রতিবছর দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি আলু উৎপাদিত হওয়ায় অনেক সময় কৃষক ন্যায্যদাম পান না। মৌসুমের শেষে হিমাগারে অবিক্রীত আলু জমে থাকে, উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে অনেক চাষি আর্থিক সংকটে পড়েন। আলুকে শুধু খাবার নয়, শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা গেলে উদ্বৃত্ত আলুর একটি বিকল্প বাজার তৈরি হবে।
আলুর স্টার্চ ব্যবহৃত হয় খাদ্য, বস্ত্র, কাগজ, ওষুধ ও রাসায়নিক শিল্পে; বিস্কুট, নুডলস, চিপস, ক্যান্ডি, ক্যাপসুল ও আঠা তৈরিতেও এটি লাগে। এসব শিল্পের কাঁচামালের একটি অংশ এখন আমদানি করতে হয়। রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, জয়পুরহাট ও ঠাকুরগাঁওয়ের মতো আলুপ্রধান জেলায় কারখানা হলে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি আলু কেনা এবং পরিবহন খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
প্রতিবেদনে কয়েকটি চ্যালেঞ্জের কথাও বলা হয়েছে: আলুর শুষ্ক পদার্থ ও স্টার্চের পরিমাণ, উপযুক্ত জাত, আধুনিক যন্ত্রপাতি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানি এবং উৎপাদন ব্যয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপযুক্ত জাত বাছাই ও গবেষণার মাধ্যমে খরচ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে টেকা কঠিন হবে। এ জন্য বেসরকারি বিনিয়োগ, সহজ শর্তে ঋণ এবং কারখানার সঙ্গে কৃষকের চুক্তিভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।
আলু ও সবজি সরাসরি রপ্তানির জন্য বগুড়া বিমানবন্দর চালু করে সেটিকে আন্তর্জাতিক ও কার্গো সুবিধাসম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে আছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে আলুচাষিদের লোকসানের ঝুঁকি কমবে। প্রক্রিয়াজাত শিল্প বড় হলে কৃষকের জন্য সারা বছর আলু বিক্রির বাজার তৈরি হতে পারে, তবে এর সুফল পেতে কারখানায় সরবরাহের নিশ্চয়তা, ন্যায্যদাম ও আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা জরুরি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ছবি: Hridoye Mati O Manush / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪




মন্তব্য
(০)