আলু চাষ করে কুড়িগ্রামের কৃষকেরা কেন বারবার লোকসানে পড়ছেন, আর রাষ্ট্রের নানা সুবিধা পাওয়া হিমাগার ও বীজ কোম্পানিগুলো কেন মুনাফা করছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন লেখক নাহিদ হাসান। প্রথম আলোয় প্রকাশিত তাঁর কলামের মত তাঁর নিজের।
কলামের শুরু রাজারহাটের শনিবারের হাটে। সেখানে রনি, জাকির, হামিদুল ও রওশন নামের চার কৃষি উদ্যোক্তা জানান, তাঁরা সবাই আলুতে লোকসান গুনেছেন। তাঁদের কথা, সরকার আলু রপ্তানি না করলে এবার কৃষক মারা যাবে।
ক্যাতার মোড়ের মোস্তফা হিমাগারের এক পাইকারের দেওয়া হিসাব লেখক তুলে ধরেছেন: কুড়িগ্রামে ছয়টি হিমাগার থাকায় কৃষকেরা বেশি আলু লাগিয়েছেন। হিমাগার ভাড়াসহ কেজিতে খরচ পড়েছে ২৩ থেকে ২৪ টাকা, যার মধ্যে ভাড়াই ৯ টাকা ৭৫ পয়সা। অর্থাৎ ভাড়া বাদে উৎপাদন খরচ ১৩ থেকে ১৪ টাকা, অথচ কৃষক বিক্রি করছেন সাড়ে ১১ টাকা কেজিতে।
বীজের হিসাবও আছে কলামে। ভালো ফলনে শতকে দুই বস্তা, বস্তায় ৬৫ কেজি, অর্থাৎ বিঘায় ৪ হাজার ২৯০ কেজি আলু হয়। বীজের দোকানি রনি জানান, গত বছর যে বীজ কেজি ২৫ টাকায় কিনেছিলেন, এবার তার দাম ৪০ থেকে ৪২ টাকা। বিঘায় ৩৬০ কেজি বীজ লাগে বলে বাড়তি খরচ ৫ হাজার ৪০০ টাকা, উৎপাদিত আলুর কেজিতে প্রায় দেড় টাকা। লেখকের যুক্তি, এই বাড়তি খরচ না থাকলে বিক্রয়মূল্য ও খরচ প্রায় সমান হতো।
হামিদুলের প্রশ্ন দিয়ে লেখক আসল জায়গায় আসেন: শীতের সবজির হিমাগার নেই বলে দাম পড়ে, সেটা বোঝা যায়, কিন্তু আলু তো সংরক্ষণ করা যায়, তবু দাম পড়ে কেন? অথচ হিমাগারের কল্যাণে ভোক্তা সারা বছর ২০ টাকা কেজিতে আলু খান।
লেখক মনে করিয়ে দেন, হিমাগারগুলো কৃষিভিত্তিক শিল্প হিসেবে কম সুদে ঋণ ও পুনঃঅর্থায়ন, বিদ্যুতে ছাড়, যন্ত্র আমদানিতে শুল্ক ছাড় এবং রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা পায়, আর কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা ঠিক করে দেয়। তাঁর প্রস্তাব, খাদ্যগুদামের মতো হিমাগার ব্যবহার করে সরকার ন্যূনতম দামে কৃষকের কাছ থেকে আলু কিনতে পারে। বেসরকারি বীজ কোম্পানিগুলোও সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত জাতের বীজ সুলভে পায়, কম সুদে ঋণ ও শুল্ক-ভ্যাট ছাড় পায়।
কলামের শেষে লেখক বলেন, এই সহায়তার অর্থ জনগণের; অথচ কৃষক লোকসানে ডুবছেন আর কোম্পানিগুলো ফুলেফেঁপে উঠছে, এই বৈপরীত্যের জবাব দরকার।
ছবি: Hridoye Mati O Manush / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)