কুড়িগ্রামের রাজারহাটের চর খিতাবখাঁ এলাকার ৮৫ বছর বয়সী জয়নাল আবেদীনের ঘর নদীতে ভেঙেছে ১৭ বার। সাত-আট বছর বয়স থেকে ভাঙন দেখছেন তিনি, কিন্তু ঘর তোলার জন্য কখনো সরকারি সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ তাঁর। প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক লেখায় তাঁর কথা তুলে ধরেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও নদী রক্ষাবিষয়ক সংগঠন রিভারাইন পিপলের পরিচালক তুহিন ওয়াদুদ।
তিস্তার পাড়ে লেখকের সঙ্গে কথা হয় আরও তিনজনের: নওশাদের ঘর ভেঙেছে পাঁচবার, বেলালের চারবার, আবদুল খালেকের দুবার। একসময় অনেক জমির মালিক আবদুল খালেকের এখন ১০ থেকে ১২ শতক অবশিষ্ট। ছেলেকে ছোট চাকরিতে দিতে চাননি, কিন্তু বাড়ি ভাঙার পর আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে পাঠাতে হয়েছে। নওশাদের কথা: আগুনে বাড়ি পুড়লেও পুকুর ও জমি থাকে, নদী ভাঙলে কিছুই থাকে না।
স্থানীয় লোকজনের হিসাবে, মাঝের চরে ভাঙনে ঘরহারা প্রায় ৩০০ পরিবারের বাস। চরে যা ফলে, তা বিক্রি হয় চর খিতাবখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছের অস্থায়ী ঘাটে। রাজারহাটের সরিষাবাড়ীর আবদুল বাতেনদের চার ভাইয়ের ২ একর ৫০ শতক জমি কয়েক বছর আগে নদীতে গেছে; দুই ভাই ঢাকায় চলে গেছেন।
ধরলার পাড়েও একই গল্প। কুড়িগ্রাম সদরের হযরত আলীর জমি নদীতে যাওয়ার পর তিনি ভ্যানগাড়ি চালান, ২০ বছর ধরে আছেন বাঁধের ওপর ঘর তুলে। লেখকের ভাষ্যে, তিস্তা ও ধরলার বাঁধে হাজার হাজার মানুষের ঘর রয়েছে, আর ধরলার নদী সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণের সময় অনেককে উচ্ছেদ করা হয়েছিল।
লেখক বলছেন, ভাঙনের ক্ষতি কেবল টাকার অঙ্কে মাপা যায় না। পরিবার ছড়িয়ে পড়ে, প্রতিবেশীর বন্ধন ছিঁড়ে যায়, সবচেয়ে বিপাকে পড়েন নারীরা। ঘরহারা অনেকে এনজিও বা উচ্চ সুদে মহাজনের ঋণে এমন চক্রে আটকা পড়েন, যা থেকে সারা জীবনেও মুক্তি মেলে না। চরের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ কম, স্বাস্থ্যসেবা নেই বললেই চলে।
তুহিন ওয়াদুদের মতে, তিস্তা ও ধরলার দুই পাড়ে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে খুব সামান্য অংশে, অথচ সরকার চাইলে তা রোধ করা সম্ভব। এই মতামত লেখকের নিজের।
ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো



মন্তব্য
(০)