খাদ্য ব্যবসাগুলো একের পর এক ধাক্কা সামলে নিয়েছে, আর সেই সাফল্যই এখন সমস্যার অংশ। এই সপ্তাহে ফিউচার ফুড মুভমেন্টের যে গোলটেবিলে তিনি অংশ নিয়েছিলেন, তা নিয়ে এজিফান্ডনিউজের কলামে এমনটাই লিখেছেন লুইসা বারউড-টেলর (Louisa Burwood-Taylor)। এই মতামত তাঁর ও তাঁর উদ্ধৃত বক্তাদের নিজস্ব।
ইনসাইড ট্র্যাকের বিনিয়োগকারী সম্পৃক্ততা প্রধান আনা কাডেফোর্ড (Ana Cuddeford) বলেন, বড় তালিকাভুক্ত খাদ্য কোম্পানিগুলোর ফলাফল ও মূল্যায়ন টিকে আছে। সরবরাহ ঝুঁকি এত ভালোভাবে সামলাচ্ছে বলেই সেই ঝুঁকির দাম এখনো ধরা হচ্ছে না। নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা কেট কলি (Kate Cawley) দোকানের তাকেও একই ছবি দেখছেন, পণ্য মেলায় ভোক্তারাও ঝুঁকিটা টের পাচ্ছেন না।
ডব্লিউডব্লিউএফ-যুক্তরাজ্যের খাদ্য ব্যবস্থা রূপান্তর প্রধান সোফি বাউয়ার (Sophie Bauer) এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। যুক্তরাজ্য তার খাদ্যের প্রায় ৪০ শতাংশ আমদানি করে, যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসে খরা, বন্যা ও চরম আবহাওয়ার উচ্চ ঝুঁকির অঞ্চল থেকে। তাঁর মতে, ব্রিটিশ কৃষিকে সমর্থন অনেক আগেই দরকার ছিল, তবে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা বৈশ্বিক পণ্য ব্যবস্থার ওপরও নির্ভর করে।
আলোচনার কঠিন প্রশ্ন ছিল, প্রধান অর্থ কর্মকর্তাকে সরবরাহ ঝুঁকিতে খরচে রাজি করানো যাবে কীভাবে। কাডেফোর্ডের উত্তর বিমা। তাঁর ভাষ্য, অ্যাকচুয়ারিরা ভালোই জানেন কোন ঝুঁকি আর কাভার করবেন না, আর চুক্তির দাম ঠিক হয় বছর বছর। তিনি পরামর্শ দেন, পাঁচ বছর আগের দৃশ্যপট বিশ্লেষণের সঙ্গে বাস্তবে যা ঘটেছে তা মিলিয়ে দেখতে, কারণ বেশির ভাগ পরিকল্পনা হয় ১২ মাসের হিসাবে।
বাউয়ার দুটি পথের কথা বলেন। শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে প্রকৃতির বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে সহজে বোঝানো যায় পানির ঝুঁকি। অন্যটি আইনি দায়, কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বন উজাড় বিধি এ বছরের শেষ থেকে কার্যকর হচ্ছে। তাঁর মতে, কঠিন হলো দীর্ঘমেয়াদি যুক্তি, কারণ পুনরুজ্জীবনী বা প্রকৃতিবান্ধব কৃষিতে যেতে লাভ ফিরতে প্রায় সাত বছর লাগে।
বারউড-টেলরের নিজের বক্তব্য উদ্ভাবনের অর্থ নিয়ে। এজিফান্ডারের তথ্যে, এগ্রিফুডটেক স্টার্টআপে ভেঞ্চার অর্থায়ন ২০২১ সালে ছিল সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলার, গত বছর তা নেমেছে ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে। তিনি লেখেন, খাদ্য ব্যবস্থার ঝুঁকি সবসময়ের মতোই বেশি, অথচ সমাধানের অর্থায়ন ধসে পড়েছে, আর বড় খাদ্য কোম্পানিগুলো পণ্য বা ব্যবসা কিনতে ধীর। তাঁর মতে, এই ফাঁকটাই আলাদা এক ঝুঁকি।
কলাম: লুইসা বারউড-টেলর, এজিফান্ডনিউজ। মতামত লেখক ও উদ্ধৃত বক্তাদের নিজস্ব।
ছবি: Martinpulido / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0), একটি মুদি দোকানের ফল ও সবজির তাক
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ



মন্তব্য
(০)