২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হতে হলে ভারতের কৃষিকে রক্ষণশীল হিসাবেও বছরে প্রকৃত অর্থে ৪ শতাংশ হারে বাড়তে হবে। ডাউন টু আর্থে এক লেখায় ভুবনা নারায়ণরাও (Bhuvana Narayanarao) ও রবি নন্দী (Ravi Nandi) বলছেন, বিশ শতকের ওপর থেকে নিচে প্রযুক্তি হস্তান্তরের সম্প্রসারণ ব্যবস্থা দিয়ে তা সম্ভব নয়। মতামত লেখকদের নিজস্ব।
লেখকেরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, সবুজ বিপ্লব সফল হয়েছিল কারণ নতুন জাতের সঙ্গে ছিল জোরালো সম্প্রসারণ সেবা, সেচকূপে ভর্তুকি, সস্তা বিদ্যুৎ ও ন্যূনতম সহায়ক মূল্য। তারপর থেকে আশাজাগানো অনেক উদ্ভাবন মাঠে টেকেনি। তাঁদের মতে, সম্প্রসারণ ব্যবস্থা প্রযুক্তিকে স্থির বস্তু ভেবে গবেষণাগার থেকে খামারে পৌঁছে দেয়।
কৃষক বেশি ফলনের প্রতিশ্রুতি দেখলেই প্রযুক্তি নেবেন, এই ধারণাকেও চ্যালেঞ্জ করেছেন তাঁরা। বাস্তব বাধা, শেখার খরচ ও ঝুঁকি পথ আটকায়; উৎপাদনের সহজতা বা স্বাদও ফলনের মতোই গুরুত্ব পায়।
তাঁদের প্রস্তাব "কৃষি সুযোগ ব্যবস্থা", যেখানে মাঠকর্মীরা হবেন সুযোগের সংযোগকারী। এর চার স্তম্ভের প্রথমটি হলো সামগ্রিক দৃষ্টি, যা কৃষকের আকাঙ্ক্ষা ও স্থানীয় সীমাবদ্ধতা থেকে শুরু হবে এবং রপ্তানির মান ও সনদ পর্যন্ত যাবে। দ্বিতীয়টি আবহাওয়া কেন্দ্র, স্যাটেলাইট ছবি ও পোকার স্থানীয় মডেল দিয়ে সচল পরামর্শ।
তৃতীয় স্তম্ভ, রাজ্যজুড়ে ছড়ানোর আগে কড়া মূল্যায়ন করে শুধু প্রস্তুত প্রযুক্তিই বড় করা। চতুর্থটি, বিচ্ছিন্ন নীতির বদলে নানা ধরনের সেবাদাতা নিয়ে সমন্বিত ব্যবস্থা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে তাঁরা সতর্ক। দায়বদ্ধতার প্রশ্নে পুরোপুরি এআইনির্ভর সম্প্রসারণ ব্যবস্থা এখন ভালো ধারণা নয় বলে লিখেছেন তাঁরা। এআই দেবে তথ্য ও দ্রুত বিশ্লেষণ, আর মানুষ দেবে প্রেক্ষাপট ও আস্থা। তাই তাঁরা চান মানুষের তদারকিতে চলা এআই-সমর্থিত ব্যবস্থা।
ছবি: Yann / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ



মন্তব্য
(০)