ঢাকায় হাসপাতালের সংখ্যা দিয়ে শহরের স্বাস্থ্যব্যবস্থা মাপা যায় না বলে মনে করেন একেএম ইকবাল বাহার ও রায়হানুল জান্নাত। দ্য ডেইলি স্টার বাংলায় প্রকাশিত কলামে তাঁরা তিনটি প্রশ্ন তুলেছেন: মুমূর্ষু রোগী কি সময়মতো পৌঁছাতে পারেন, চিকিৎসা কি সামর্থ্যের মধ্যে আছে, আর সেবা কি পুরো শহরে ন্যায্যভাবে বণ্টিত? মতামত লেখকদের নিজস্ব।
প্রথম প্রশ্নে তাঁরা ২০১৯ সালের একটি গবেষণার উল্লেখ করেছেন: যানজটের মধ্যে ঢাকার বস্তি এলাকার মাত্র ৬৩ শতাংশ মানুষ এক ঘণ্টায় অধিকাংশ জরুরি সেবার কাছে পৌঁছাতে পারেন, দগ্ধ রোগীর চিকিৎসায় এই হার ৩২ শতাংশ। তাঁদের ভাষায়, স্বাস্থ্যসেবার দূরত্ব সব সময় কিলোমিটারে মাপা যায় না।
দ্বিতীয় প্রশ্নে তাঁরা বলছেন, প্রধান বাধা অনেক সময় ভৌগোলিক নয়, আর্থিক। পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ ও ভর্তির খরচ অনেকের নাগালের বাইরে। অমর্ত্য সেনের ক্যাপাবিলিটি এপ্রোচ টেনে তাঁরা লিখেছেন, সেবা থাকলেই কল্যাণ হয় না, মানুষের সেই সেবা ব্যবহারের বাস্তব সক্ষমতা থাকতে হয়।
তৃতীয় প্রশ্ন ন্যায্য বণ্টনের। ২০১৫ সালের একটি গবেষণায় ছয়টি অনানুষ্ঠানিক বস্তিতে ১ হাজার ৪১টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র মিলেছিল, যার ৮০ শতাংশের বেশি বেসরকারি, আর সাশ্রয়ী সরকারি তৃতীয় স্তরের হাসপাতালগুলোর বেশির ভাগ ছিল অন্তত তিন কিলোমিটার দূরে।
উদাহরণ হিসেবে তাঁরা ধানমন্ডির কথা বলেছেন। বহু হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এক এলাকায় থাকায় প্রতিদিন বিপুল মানুষ সেখানে যান, সড়কে চাপ পড়ে, ভোগেন এলাকাবাসী, রোগী এবং শহরের অন্য নাগরিকেরাও।
লেখকদের প্রস্তাব, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউএন-হ্যাবিট্যাটের কথামতো স্বাস্থ্যকে পরিবহন, ভূমি ব্যবহার ও নগর পরিচালনার সঙ্গে মিলিয়ে ভাবতে হবে, আর কোথায় নতুন হাসপাতাল দরকার তা তথ্য দেখে ঠিক করতে হবে। গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের মতো দ্রুত বাড়তে থাকা শহরেও এটি প্রযোজ্য।
জাতীয় পর্যায়েও একই সমস্যা দেখছেন তাঁরা: ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেশের ৩৫টি তৃতীয় স্তরের হাসপাতালের ১৬টি ঢাকা জেলায়, যেখানে এমন হাসপাতালের মোট শয্যার প্রায় ৪১ শতাংশ। একেএম ইকবাল বাহার গাজীপুরের কেপিজে নার্সিং কলেজের সহকারী অধ্যাপক, রায়হানুল জান্নাত নগর পরিকল্পনাবিদ।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার




মন্তব্য
(০)