বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় দালাল চক্র কোনো বিচ্ছিন্ন অনিয়ম নয়, গভীরভাবে প্রোথিত কাঠামোগত সমস্যা, লিখেছেন চিকিৎসক ও সমাজকর্মী ডা. এম আর করিম রেজা। ডেইলি বাংলাদেশে প্রকাশিত তাঁর লেখায় বলা হয়েছে, এই নেটওয়ার্কে আছেন অসাধু হাসপাতালকর্মী, ওয়ার্ডবয়, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধি, কমিশনভিত্তিক দালাল, অ্যাম্বুলেন্স চালক এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালের অসাধু চিকিৎসকও।
লেখকের ভাষ্যে, সরকারি হাসপাতালে সীমিত শয্যা ও রোগীর চাপের সুযোগে কিছু মধ্যস্বত্বভোগী অর্থের বিনিময়ে দ্রুত ভর্তি বা শয্যার ব্যবস্থা করেন। যন্ত্রপাতি, রিএজেন্ট ও জনবলের ঘাটতিতে রোগীরা বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে বাধ্য হন, আর সেখানেই দালালদের কমিশনের কারবার। এতে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর প্রবণতাও দেখা যায় বলে তিনি লিখেছেন।
তাঁর মতে, সবচেয়ে উদ্বেগজনক আইসিইউ ও জরুরি চিকিৎসা। সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা সীমিত, দূর থেকে আসা স্বজনেরা তথ্যের অভাবে দালালের ওপর নির্ভর করেন। অনেক ক্ষেত্রে যেসব প্রতিষ্ঠানে রোগীকে নেওয়া হয়, সেখানে মানসম্মত আইসিইউ থাকে না। গ্রামে হাতুড়ে বা অনানুষ্ঠানিক পল্লী চিকিৎসকেরা রোগী রেফার করে কমিশন পান, ফলে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত একটি বাণিজ্যিক শৃঙ্খল তৈরি হয়।
সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ। লেখক জানান, স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দ প্রায় ৫ শতাংশের কাছাকাছি এবং জিডিপির তুলনায় ১ শতাংশেরও কম, আর ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যব্যয় প্রায় ৭০ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান লেখকের দেওয়া। তাঁর মতে, অবৈধ লেনদেন স্বাভাবিক হয়ে ওঠায় চিকিৎসার প্রতি মানুষের আস্থাও কমছে।
সমাধান হিসেবে ডা. করিম রেজা সরকারি সক্ষমতা বৃদ্ধি, কঠোর ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত বিনিয়োগের কথা বলেছেন। এই মতামত লেখকের নিজের।
ছবি: A.M.R. / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ




মন্তব্য
(০)