জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় এবার মরিচের আবাদ বেড়েছে, কিন্তু ভরা মৌসুমে দাম না পেয়ে হতাশ চাষিরা। উপজেলার হাটবাজারে কৃষকের কাছ থেকে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ কেনা হচ্ছে ১৫ থেকে ১৭ টাকায়, অথচ একই উপজেলার খুচরা বাজারে ক্রেতা কিনছেন ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামের আড়তে এই মরিচই বিক্রি হয় ৯০ থেকে ১০০ টাকায়।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) উপজেলার সবচেয়ে বড় কাঁচা মরিচের হাট গাবেরগ্রামে পাইকারি দর ছিল কেজি ১৫ টাকা, অর্থাৎ মণপ্রতি ৬০০ টাকা। চর শুভগাছা গ্রামের চাষি রাসেল খান জানান, মরিচ তোলার শুরুতে ভালো দাম পেলেও এখন পাইকারি বাজারে দাম নেই।
বালিজুড়ি ইউনিয়নের চর শুভগাছা গ্রামের চাষি শিপন বলেন, এবার সার, কীটনাশক ও সেচের দাম বেশি হওয়ায় বিঘাপ্রতি মরিচ চাষে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখনকার দরে সেই খরচ উঠবে না।
জোড়খালী ইউনিয়নের আব্দুল খালেক পলিমালচিং পদ্ধতিতে তিন বিঘায় উচ্চফলনশীল ময়নামতি জাতের মরিচ করেছেন। তাঁর হিসাবে, জমি চাষ, সেচ, বীজ, সার-কীটনাশক, যাতায়াত ও শ্রমিকের মজুরি সব খাতেই খরচ গতবারের চেয়ে বেড়েছে, সঙ্গে সার পেতে ভোগান্তিও ছিল। দাম না বাড়লে বড় লোকসানে পড়বেন বলে তাঁর আশঙ্কা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ৭৫০ হেক্টরে মরিচ চাষের লক্ষ্য থাকলেও আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৫০ হেক্টরে। এর মধ্যে আগাম মরিচ ৩০০ হেক্টরে এবং পলিমালচিং পদ্ধতিতে ২৫ হেক্টরে। ময়নামতি, গ্রিন সুপার, নাগা ফায়ার, বিজলি, গ্রিন স্টার, সুপার ও প্রিমিয়াম জাতের আবাদ বেশি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, লক্ষ্যের চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ হওয়ায় এবার কাঁচা মরিচের উৎপাদন ৪২ হাজার মেট্রিক টন ছাড়াতে পারে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় মরিচ যাচ্ছে। তিনি জানান, দুই শতাধিক কৃষককে প্রণোদনা এবং পলিমালচিং সম্প্রসারণে পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন: ইত্তেফাকের মাদারগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা।
ছবি: Mamun Srizon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: ইত্তেফাক




মন্তব্য
(০)