চলতি আমন মৌসুমে ঝিনাইদহে ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। মাঠে মাঠে সবুজ ধান, কোথাও কোথাও আগাম জাতে এরই মধ্যে পাক ধরেছে। অনুকূল আবহাওয়া আর রোগবালাই কম থাকায় ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা, গ্রামে গ্রামে শুরু হয়েছে নতুন ধান তোলার প্রস্তুতি, জানিয়েছে বাসস।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে এবার আমনের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ১,০৪,৫০০ হেক্টর। কৃষকদের আগ্রহে আরও ১০০ হেক্টরে আবাদ হওয়ায় তা দাঁড়িয়েছে ১,০৪,৬০০ হেক্টরে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৫,২৫২ হেক্টর, শৈলকুপায় ২৪,৯৪৫, কালীগঞ্জে ১৮,৭৩৪, মহেশপুরে ১৮,১৫৫, হরিণাকুণ্ডুতে ১১,২৩২ এবং কোটচাঁদপুরে ৬,১৮২ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান লাগানো হয়েছে।
সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের মিজানুর রহমান বলেন, এবার আমন লাগানোর সময় আবহাওয়া ভালো ছিল, সময়মতো পরিচর্যা হয়েছে, তাই রোগবালাই খুব কম। অতিবৃষ্টি বা বড় দুর্যোগ না থাকায় গাছও সুস্থ। ভবানীপুরের কৃষক আমজাদ হোসেন জানান, মাঠে এখন শেষ সময়ের পরিচর্যা চলছে, কিছু জমির ধান কাটা হয়ে গেছে আর কয়েক সপ্তাহ পরে সব মাঠে কাটা শুরু হবে।
হরিণাকুণ্ডুর সিংগা গ্রামের কৃষক লাল্টু মিয়ার ভাষ্য, শেষ মুহূর্তে আকস্মিক ঝড় বা দমকা হাওয়া না হলে ক্ষতির ঝুঁকি কম। কৃষি কর্মকর্তারাও বলছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফলন পাবেন; রোগবালাই দমন ও পরিচর্যায় প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শ চলছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, মৌসুমের শুরু থেকে মাঠকর্মী ও কর্মকর্তারা কৃষকের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন, আবহাওয়া অনুকূলে ছিল এবং সারের সরবরাহ ছিল পর্যাপ্ত। তাঁর আশা, এবার আমনে ভালো ফলন হবে এবং ঝিনাইদহের ধান স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখবে।
ছবি: ঝিনাইদহের বারবাজারের কাছে পাকা ধানের খেত (প্রতীকী), Reaid Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাসস





মন্তব্য
(০)