ভারত ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক যত গভীর হচ্ছে, আলোচনায় খাদ্য অপচয়ও যোগ করা উচিত, ডাউন টু আর্থের এক কলামে এমন যুক্তি দিয়েছেন আফশিন রিজভি ও ভি সুজাতা। মতামত লেখকদের নিজস্ব।
তাঁদের শুরু ভারতের এক বৈপরীত্য দিয়ে। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির খাদ্য অপচয় সূচক ২০২৪ অনুযায়ী ভারতে বছরে আনুমানিক ৭ কোটি ৮০ লাখ থেকে ৮ কোটি টন খাবার নষ্ট হয়, মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার কোটি রুপি; অথচ ২০২৫ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ১২৩ দেশের মধ্যে ভারত ১০২তম, 'গুরুতর' শ্রেণিতে, শিশুদের কৃশতার হার ১৮.৭ শতাংশ।
লেখকদের মতে, খাদ্য অপচয় অর্ধেক করার জাতিসংঘের লক্ষ্য (এসডিজি ১২.৩) নির্ধারিত সময়ের সাত বছর আগে পূরণ করা একমাত্র দেশ জাপান: ২০০০ সালের তুলনায় ২০২৩ সালের মধ্যে মোট খাদ্য অপচয় ৫৩ শতাংশ কমেছে, ব্যবসায় ৫৮ ও পরিবারে ৪৬ শতাংশ। দোকানগুলো বাড়তি অর্ডার দেয়, মেয়াদের অনেক আগেই পণ্য তাক থেকে সরায়, কিন্তু পুনর্ব্যবহার ও তথ্য জানানো বাধ্যতামূলক করা আইন, নির্ভরযোগ্য তথ্য আর ফুড ব্যাংকের জাল সেই উদ্বৃত্ত নষ্ট হওয়ার আগেই অভাবী মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়।
সংস্কৃতিও কাজ করে: 'মোত্তাইনাই', মানে দরকারি কিছু নষ্ট করার অনুশোচনা, আর 'তেমায়েদোরি' প্রচারণা, যা ক্রেতাদের তাকের সামনের পণ্যটি নিতে বলে। ইয়ামানাশি প্রিফেকচারে লেখকেরা দেখেছেন, ২০১৩ সালের এক আইনে ফুড ব্যাংক স্থানীয় সমাজকল্যাণের সঙ্গে যুক্ত; সেখানকার একটি কর্মসূচি একক মায়েদের খাবারের সঙ্গে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণও দেয়।
ভারতের খাদ্য খুচরা বাজার এখনো মূলত পাড়ার মুদি দোকাননির্ভর, তবে শহরে আধুনিক খুচরা ও অনলাইন বাজার বাড়ছে; লেখকদের মতে, পরে জোড়াতালি না দিয়ে এখনই দান ও বিতরণের ব্যবস্থা গড়ার সময়। ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ খাবার উদ্ধারে সহায়তা করে, ফুড ব্যাংকও আছে; ঘাটতি একটি কাঠামোর: বড় ব্যবসার অপচয় পরিমাপ ও প্রকাশ, ফুড ব্যাংক ও সমাজকল্যাণের আনুষ্ঠানিক যোগ, আর টানা জনসচেতনতা প্রচারণা।
ছবি: 円周率3パーセント (নাগোয়ার সেকেন্ড হারভেস্ট ফুড ব্যাংক) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)