সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরা বহু বছরের পুরোনো সমস্যা। আইন আছে, অভিযানে লোক ধরাও পড়ছে, কিন্তু বন বিভাগের নিজস্ব পরীক্ষাগার না থাকায় অপরাধ আদালতে প্রমাণ করা যাচ্ছে না। প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক কলামে এই যুক্তি তুলে ধরেছেন লেখক ও সাংবাদিক খলিলউল্লাহ্, যিনি প্রথম আলোর জলবায়ু প্রকল্প ব্যবস্থাপক। মতামত লেখকের নিজের।
লেখক শুরু করেছেন ৬৪ বছর আগে লেখা র্যাচেল কারসনের বই সাইলেন্ট স্প্রিং (নীরব বসন্ত) দিয়ে, যেখানে কারসন সতর্ক করেছিলেন, রাসায়নিক কীটনাশক একদিন পাখির গান আর নদীতে মাছের লাফালাফি থামিয়ে দেবে। লেখকের মতে, সুন্দরবনে বিষ দেওয়ার পর খালের ছোট-বড় মাছ, রেণু পোনা, সাপ-ব্যাঙ ও পোকামাকড় সবই মারা যাওয়া সেই সতর্কবার্তারই প্রমাণ।
প্রথম আলোর ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি লিখেছেন, গত জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে বিষ দিয়ে মাছ ধরার ঘটনায় ৩৪টি মামলা হয়েছে, আসামি ৩৭ জন, গ্রেপ্তার ২৫ জন। সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান লেখককে জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বেশির ভাগ জামিনে বেরিয়ে গেছেন। নিজস্ব পরীক্ষাগার না থাকায় জব্দ করা মাছের নমুনা ঢাকায় পাঠাতে হয়, নানা প্রতিষ্ঠান ঘুরে পরীক্ষা শেষ হতে এত দেরি হয় যে তত দিনে নমুনায় বিষের উপস্থিতি আর নিশ্চিত করা যায় না।
লেখক মনে করিয়ে দিয়েছেন, কীটনাশকের অপব্যবহার ঠেকাতে দেশে ২০১৮ সালের বালাইনাশক আইন, ১৯৮৫ সালের বালাইনাশক রুলস (সংশোধিত ২০১০), ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং ২০১৩ সালের নিরাপদ খাদ্য আইন রয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনও সংশোধন করে গবাদিপশু ও মৎস্যের জন্য ক্ষতিকর কাজকে এর আওতায় আনার কাজ চলছে।
১১ অক্টোবর মোংলায় প্রথম আলো আয়োজিত আলোচনা সভায় উপকূলের পানিসংকট ও সুন্দরবনের প্রতিবেশ নিয়ে কথা হয়, সেখানেও বিষ দিয়ে মাছ ধরা নিয়ে আক্ষেপ উঠে আসে বলে লিখেছেন তিনি। তাঁর পর্যবেক্ষণ, অভিযানে যাঁরা ধরা পড়ছেন তাঁরা বেশির ভাগই সাধারণ জেলে; তাঁদের পেছনের মহাজন চক্রকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া বেশি জরুরি। অনেক বন কর্মকর্তা ব্যবস্থা নিতে চাইলেও জনবল, সম্পদ ও আইনি জটিলতায় আটকে যান।
লেখকের প্রশ্ন, এত বড় বিপদ জেনেও দ্রুত নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে নীতিনির্ধারকদের এত সময় লাগছে কেন। সুন্দরবনের খালের মাছ আর উপকূলের জেলেদের জীবিকার জন্য প্রশ্নটি এখন জরুরি।
ছবি: Jyotirmoy Banik / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)