একদম ফিশমিল ছাড়া তৈরি খাদ্যেও বাইন মাছ (ইল) বড় হতে পারে, খামারে পরীক্ষা চালিয়ে এমন ফল পেয়েছে জাপানের মাছের খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফিড ওয়ান (Feed One)। অ্যাকুয়াকালচারে যে প্রজাতিগুলো ফিশমিলের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল, বাইন মাছ তাদের একটি।
প্রচলিত বাইন মাছের খাদ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ ফিশমিল থাকে। পুষ্টির পাশাপাশি ভালো ফিশমিল পানিতে মেশালে খাদ্যকে মাখার মতো নরম গঠন দেয়, আর এর গন্ধ মাছকে খেতে টানে। ফিশমিলের দাম বাড়া এবং মাছ ধরা ও এল নিনোর মতো সামুদ্রিক অবস্থার ওঠানামায় সরবরাহ অনিশ্চিত হওয়ায় এই নির্ভরতা চাষিদের জন্য চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কিউশুর বাইন মাছ চাষিদের সঙ্গে মিলে ফিড ওয়ান দুই মাস ধরে প্রায় ৩৮ হাজার মাছের ওপর পরীক্ষা চালায়, তুলনা করে ফিশমিলমুক্ত খাদ্য কামুই জিরো (Kamui ZERO) আর ৬০ শতাংশ ফিশমিলের খাদ্য। ফিশমিলমুক্ত খাদ্যে খাদ্য রূপান্তর দক্ষতা কম হলেও মাছ সক্রিয়ভাবে খেয়েছে, আর দুই দলেই মাছ শুরুর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বড় হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।
ফিশমিলের কাজ পূরণ করতে খাদ্যে মেশানো হয়েছে ঘন সয়া প্রোটিনের মতো উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, মুরগির মিলের মতো প্রাণিজ প্রোটিন, আর মাছকে আকর্ষণ করতে চিংড়ি ও স্কুইডের মিল। ফিড ওয়ানের দাবি, বাইন মাছের জন্য এটিই শিল্পে প্রথম সম্পূর্ণ ফিশমিলমুক্ত মিশ্র খাদ্য; চলতি বছরই এটি বাজারে আনার পরিকল্পনা আছে।
আলাদা এক অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় ৪০ শতাংশ ফিশমিলের খাদ্যে রূপান্তর দক্ষতা প্রচলিত খাদ্যের চেয়ে সামান্য কম হলেও মাছ দিনে সমান বা বেশি খেয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি ফিশমিল কমানোর কাজ করছে; সে বছর ৬০ শতাংশ ফিশমিলের খাদ্য আর ২০২৩ সালে ৪০ শতাংশের খাদ্য বাজারে আনে।
খাদ্য রূপান্তর দক্ষতা বাড়াতে চাষিদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে এবং প্রতিটি খামারের অবস্থা বুঝে ধাপে ধাপে ফিশমিল কমানোর প্রস্তাব দেবে বলে জানিয়েছে ফিড ওয়ান। প্রতিবেদনটি করেছেন আমান্ডা লিম।
ছবি: USA PD / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)