ইসলামে অসুস্থতাকে কেবল শারীরিক কষ্ট হিসেবে দেখা হয় না, একে জীবনের পরীক্ষা ও পাপমোচনের মাধ্যম হিসেবেও গণ্য করা হয়। তবে অসুস্থ হলে হাত গুটিয়ে বসে থাকার কথা বলা হয়নি: চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া এবং একই সঙ্গে আল্লাহর কাছে আরোগ্য চাওয়া, দুটিই করতে বলা হয়েছে।
সাহাবিরা নবীজি (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, অসুস্থ হলে তাঁরা চিকিৎসা নেবেন কি না। তিনি চিকিৎসা নিতে বলেন এবং জানান, আল্লাহ এমন কোনো রোগ পাঠাননি যার প্রতিষেধক সৃষ্টি করেননি (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮৫৫)।
সুরা ফাতিহার আরেক নাম ‘আশ-শাফিয়া’, অর্থাৎ আরোগ্যকারী সুরা। সাহাবি আবু সাইদ খুদরি (রা.) সুরা ফাতিহা পড়ে বিচ্ছুর কামড়ে আক্রান্ত এক ব্যক্তিকে ফুঁ দিয়েছিলেন; ঘটনা শুনে নবীজি তা সমর্থন করেন (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৭৪৯)। আমল হিসেবে অসুস্থ ব্যক্তি নিজে বা তাঁর প্রিয়জন বিশ্বাসের সঙ্গে সাতবার সুরা ফাতিহা পড়ে ব্যথার জায়গায় ফুঁ দিতে পারেন।
সাহাবি ওসমান ইবনে আবিল আস (রা.) শরীরে তীব্র ব্যথার কথা জানালে নবীজি তাঁকে ব্যথার জায়গায় ডান হাত রেখে তিনবার ‘বিসমিল্লাহ’ বলে সাতবার একটি দোয়া পড়তে বলেন: ‘আউজু বিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহি মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহাজিরু’, অর্থাৎ আমি যে কষ্ট অনুভব করছি ও যার আশঙ্কা করছি, তা থেকে আল্লাহ ও তাঁর ক্ষমতার আশ্রয় চাই (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২০২)।
অসুস্থ কাউকে দেখতে গেলে নবীজি আশার কথা শোনাতেন এবং বলতেন, ‘লা বা’সা ত্বহুরুন ইন শা-আল্লাহ’, অর্থাৎ কোনো ক্ষতি নেই, আল্লাহ চাইলে এটি পবিত্রতার মাধ্যম (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৬১৬)।
দোয়ার আদব হিসেবে শুরুতে ও শেষে আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ পাঠ, নিজের ভাষায় রোগমুক্তি চাওয়া এবং চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ নিয়মিত খাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রহ.) জাদুল মাআদে লিখেছেন, ওষুধ শরীরের ভারসাম্য ফেরায় আর দোয়া আত্মার শক্তি জাগায়; দুটি একসঙ্গে হলে আল্লাহর হুকুমে আরোগ্য আসে।
লেখাটি প্রথম আলোর ধর্ম ডেস্কের প্রতিবেদন অবলম্বনে।
ছবি: অজ্ঞাত লিপিকার / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)